অতিরিক্ত চুল পড়ার সমাধান

বর্তমানে আমাদের একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে যাচ্ছে সেটি হল মার্ক কম বয়সে অর্থাৎ কিশোর বয়সেই আমাদের মাথার চুল পড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে চুল পড়াতে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাথা ভর্তি চুল থাকবে এটা সকলেরই চাওয়া। এটা সকলেরই হয়তো পূরণ হয় না কারণ অনেকরেই অতিরিক্ত চুল পড়ে গিয়ে মাথায় টাক হয়ে যায়। কিন্তু আমাদের চুল স্বাভাবিকভাবে ধরবে এটা ঠিক যেমন আছে ঠিক তেমনি যদি দৈনিক প্রতিদিন বেশি মাথা চুল পড়ে তাহলে এটি চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। মাথার চুল গোড়া থেকে উঠে আসা আর চুল ভেঙ্গে পড়ে যাওয়া এক বিষয় নয়। আমাদের মাথার চুল 85% থেকে ৯০% চললে এনযাইম পর্যায়ে থাকে এবং এই নাজেন্ট চুলের স্থায়িত্ব কাল প্রায় তিন বছর হয়ে থাকে। স্বাভাবিক অবস্থায় একজন মানুষের মাথায় এক লাখের মত চুল হয়ে থাকে। আমাদের মাথা প্রতিদিন চুল দশমিক ৩৭ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। একজন মানুষের স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন ১০০টি পরতে পারে। যখন এর চেয়ে বেশি চুল পড়বে তখন এটি স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত পরবে।

অতিরিক্ত চুল পড়ার সমাধান
অতিরিক্ত চুল পড়ার সমাধান

চুল পড়ার কারণ

মাথার বিভিন্ন কারণে চুল পড়তে পারে। তার মধ্যে অন্যতম একটি কারণ হলো পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টির অভাব থাকলে। অনেক কিশোর কিশোর নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অল্প পরিমাণে খাবার খেয়ে থাকে এতে করে তাদের অপুষ্টিতে ভুগতে পারে। চুলের পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন এ, বি, সি, ডি, এবং ই, প্রোটিন, আয়রন, জিংক, নিয়মিত গ্রহণ করা একজন মানুষের অপরিহার্য। এ সকল পুষ্টির অভাবে মাথার চুল পড়ে যায় এবং বিভিন্ন ধরনের রোগের সৃষ্টি করে। এ সকল পুষ্টির ঘাটতি পূরণের জন্য আমাদের নিয়মিত খাদ্য তালিকায় ডিম, কলিজা, বাদাম, মিষ্টি আলো, ব্রকলি ইত্যাদি রাখতে হবে। আমাদের চুল পড়ার আরেকটি অন্যতম কারণ হচ্ছে থাইরয়েডের সমস্যা। এই সমস্যার কারণে আমাদের মাথার চুল পড়ে যেতে পারে। এছাড়াও মাথার ত্বকের কিছু ছত্রাকের কারণে ও মাথার চুল পড়ে যেতে পারে।

এছাড়াও অতিরিক্ত চুল পড়ার সমস্যা সমাধানের জন্য প্রথমে এর কারণ নির্ণয় করা জরুরি। নিচের কারণগুলো হতে পারে:

  • জিনগত কারণে কিছুক্ষেত্রে জিনগত কারণে চুল পড়তে পারে।
  • চুলে রাসায়নিক ব্যবহার, গরম পানিতে চুল ধোয়া, টাইট হেয়ারস্টাইল, অতিরিক্ত চুল আঁচড়ানো ইত্যাদি চুল পড়ার কারণ হতে পারে।
  • প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন ডি, এবং বি ১২ এর অভাব চুল পড়ার কারণ হয়ে থাকতে পারে।
  • থাইরয়েড সমস্যা, প্রেগন্যান্সি, মেনোপজ, পিসিওএস ইত্যাদি হরমোনের ভারসাম্যহীনতা চুল পড়ার কারণ হয়ে থাকতে পারে।
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ চুল পড়ার অন্যতম কারণ হয়ে থাকতে পারে।
  • কিছু রোগ যেমন অ্যালোপেশিয়া, টাইনিয়া ক্যাপিটিস, এবং লুপাস চুল পড়ার কারণ হতে পারে।

চুল পড়ার সমাধান

যদি পুষ্টির অভাবে চুল পড়া শুরু হয়ে থাকে তাহলে আমাদের খাদ্যের তালিকার দিকে সচেতন হতে হবে। নিয়মিত খাদ্য তালিকায় প্রোটিনের অভাব পূরণের জন্য বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন এবং মিনারেল গ্রহণ করতে হবে। সেই সাথে আমাদের আয়রন জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে যেমন বাদাম, মটর শুটি, মাংস, ডিম সবুজ শাকসবজি ইত্যাদি খেতে হবে। এবং প্রতিটি নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।

এছাড়াও অন্যান্য সমাধান:
  • জিনগত কারণে চুল পড়া বন্ধ করা সম্ভব নয়, তবে চুলের যত্নের মাধ্যমে চুল পড়া কমানো সম্ভব।
  • চুলের যত্নের সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে চুল পড়া বন্ধ করা সম্ভব।
  • সুষম খাবার খাওয়ার মাধ্যমে পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে চুল পড়া বন্ধ করা সম্ভব।
  • মানসিক চাপ কমিয়ে চুল পড়া বন্ধ করা সম্ভব।
  • রোগের সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে চুল পড়া বন্ধ করা সম্ভব।
  • ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে চুল পড়া বন্ধ করা সম্ভব।

সাধারণ সমাধান:

  • চুলের সুস্থতার জন্য প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন ডি, এবং B12 সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি।
  • চুলের যত্নের সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ:
    1. চুল নিয়মিত ধুয়ে পরিষ্কার রাখুন।
    2. চুলে রাসায়নিক ব্যবহার কমিয়ে দিন।
    3. ভেজা চুলে আঁচড়ানো এড়িয়ে চলুন।
    4. চুল ধোয়ার পর নরম তোয়ালে দিয়ে চুলের পানি শুষে নিন।
    5. টাইট হেয়ারস্টাইল এড়িয়ে চলুন।
    6. নিয়মিত চুল আঁচড়ান।
    7. গরম পানিতে চুল ধোয়া এড়িয়ে চলুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top