অ্যাপেন্ডিসাইটিস কি এবং কিভাবে ভালো করা যায়

আমাদের বৃহদন্ত্ৰ নলের মতো ফাঁপা। অ্যাপেন্ডিসাইটিস হলো আমাদের দেহের অ্যাপেন্ডিক্স নামক একটি অংশের রোগ। অ্যাপেন্ডিসাইটিস হল অ্যাপেনডিক্স এর সংক্রমণ। অ্যাপেন্ডিকিসের নিঃসরণ যে ছিদ্র দিয়ে খাদ্যে প্রবেশ করে কোন কারনে সেটি বন্ধ হয়ে গেলে এই সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। পায়খানা শক্ত বা অন্য কিছুর মাধ্যমে মুখটি বন্ধ করে দিলে এর নিচের গুলো ভেতরে জমা হতে থাকে এবং সেখানে ব্যাকটেরিয়া সংখ্যা দ্রুত বাঁচে থাকে আর এরপরে রক্ত চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং ফেটে যেতে পারে। আর তখন ভিতরে জমা যে সারা পেটে ছড়িয়ে পড়ে তখন যেকোনো সময় জীবনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়ে যায়।

অ্যাপেন্ডিসাইটিস বোঝার উপায় কি?

অ্যাপেন্ডিসাইটিস হল অ্যাপেন্ডিক্সের প্রদাহ, যা পেটের নিচের ডানদিকে অবস্থিত একটি ছোট, আঙুলের আকারের অঙ্গ।

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ:
  • পেটে ব্যথা:
    • পেটের নিচের ডানদিকে ব্যথা, যা সাধারণত হঠাৎ শুরু হয় এবং সময়ের সাথে সাথে তীব্রতর হয়।
    • এটি অ্যাপেন্ডিসাইটিসের সবচেয়ে প্রধান লক্ষণ।
    • ব্যথা তীব্র হতে পারে এবং হাঁটা, কাশি, বা ঝাঁকুনি দিলে আরও খারাপ হতে পারে।
    • ব্যথা সাধারণত নাভির চারপাশে শুরু হয় এবং ক্রমশ ডান দিকের নিচের পেটে ছড়িয়ে পড়ে।
  • বমি বমি ভাব বা বমি:
    • অনেকের বমিও হতে পারে।
    • বমি বমি ভাব অ্যাপেন্ডিসাইটিসের আরেকটি সাধারণ লক্ষণ।
  • জ্বর:
    • অ্যাপেন্ডিসাইটিসের সাথে সাধারণত হালকা জ্বর থাকে।
  • ক্ষুধা হ্রাস:
    • অ্যাপেন্ডিসাইটিসের কারণে ক্ষুধা কমে যেতে পারে।
  • পেট ফোলা:
    • পেট ফোলা অ্যাপেন্ডিসাইটিসের আরেকটি লক্ষণ হতে পারে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া:
    • অনেকে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের সময় কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় পড়েন।

শিশু এবং বয়স্কদের অ্যাপেন্ডিসাইটিসের লক্ষণগুলি ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। তবে শিশুদের তলপেটে ব্যথা, জ্বর এবং বমি হতে পারে। বয়স্কদের পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমি এবং ক্ষুধামন্দা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি হতে পারে।

অ্যাপেন্ডিসাইটিস কি এবং কিভাবে ভালো করা যায়
অ্যাপেন্ডিসাইটিস কি এবং কিভাবে ভালো করা যায়

আপনার যদি অ্যাপেন্ডিসাইটিসের লক্ষণ থাকে তবে দ্রুত চিকিৎসক এর সাথে দেখা করা গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাপেন্ডিসাইটিস একটি গুরুতর অবস্থা যা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা না করা হলে ছিদ্র হতে পারে। আর অ্যাপেন্ডিসাইটিস ছিদ্র হলে পেটের গহ্বরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা জীবননাসের হুমকির হতে পারে।

অন্যান্য লক্ষণ:

  • পেটে গ্যাস
  • পেটে টান
  • পেটে চাপ অনুভব করা
  • পেটে ব্যথা যা পিঠে ছড়িয়ে পড়ে
  • পেটে ব্যথা যা হাঁটা বা কাশির সময় খারাপ হয়
  • পেটে টেন্ডারনেস
  • পেটে পূর্ণতা বা ফোলাভাব
  • জ্বর
  • বমি বমি ভাব বা বমি
  • ক্ষুধা হ্রাস
  • কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া
  • ডান পায়ে ব্যথা
  • মলত্যাগের সময় ব্যথা

আপনার যদি এই লক্ষণগুলির মধ্যে কোনটি থাকে তবে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে দেখা করা গুরুত্বপূর্ণ।

সতর্কতা:

  • উপরে বর্ণিত লক্ষণগুলি অন্য স্বাস্থ্য সমস্যার কারণেও হতে পারে।
  • চিকিৎসক আপনার লক্ষণগুলির উপর ভিত্তি করে এবং শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে অ্যাপেন্ডিসাইটিস নির্ণয় করতে পারেন।
  • যদি আপনার এই লক্ষণগুলির কোনটি থাকে, তাহলে দ্রুত একজন চিকিৎসকের সাথে দেখা করা গুরুত্বপূর্ণ।
  • কিছু ক্ষেত্রে, রক্ত ​​পরীক্ষা, ইমেজিং পরীক্ষা (যেমন আল্ট্রাসাউন্ড বা সিটি স্ক্যান) প্রয়োজন হতে পারে।

অ্যাপেন্ডিসাইটিস চিকিৎসা:

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের একমাত্র নিরাময় হল অস্ত্রোপচার। অস্ত্রোপচারের দুটি প্রধান ধরণ রয়েছে:

১) খোলা অস্ত্রোপচার:

এই পদ্ধতিতে, পেটে একটি ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি দীর্ঘ কাটা দেওয়া হয়। অ্যাপেন্ডিক্সটি তখন অপসারণ করা হয়।

২)ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচার:

এই পদ্ধতিতে, পেটে ৩ থেকে ৪ টি ছোট ছিদ্র করা হয়। একটি ক্যামেরা এবং অস্ত্রোপচারের সরঞ্জামগুলি ছিদ্রের মাধ্যমে প্রবেশ করানো হয়। অ্যাপেন্ডিক্সটি তখন ক্যামেরার সাহায্যে দেখে অপসারণ করা হয়।

ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচারের কিছু সুবিধা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

  • কম ব্যথা
  • দ্রুততর পুনরুদ্ধার
  • কম দাগ

যাইহোক, ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচার সব রোগীর জন্য উপযুক্ত নয়। কিছু ক্ষেত্রে, খোলা অস্ত্রোপচার আরও নিরাপদ বিকল্প হতে পারে।

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচারের পরে, বেশিরভাগ লোক  এক থেকে দুই দিনের মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে যেতে পারে। পূর্ণ পুনরুদ্ধারে সাধারণত এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগে।

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিবায়োটিকও ব্যবহার করা হয়। অ্যান্টিবায়োটিকগুলি সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের চিকিৎসার জন্য কিছু ঘরোয়া প্রতিকারও রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

  • বিশ্রাম
  • তরল পান
  • হালকা খাবার খাওয়া
  • ব্যথার ওষুধ

যাইহোক, অ্যাপেন্ডিসাইটিসের চিকিৎসার জন্য ঘরোয়া প্রতিকারের উপর নির্ভর করা উচিত নয়। অ্যাপেন্ডিসাইটিস একটি গুরুতর অবস্থা যা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা না করা হলে জটিলতা দেখা দিতে পারে।

অ্যাপেন্ডিসাইটিসের জটিলতাগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • অ্যাপেন্ডিক্স ছিদ্র
  • পেটের গহ্বরে সংক্রমণ
  • ফোঁড়া
  • অন্ত্রের বাধা

আপনার যদি অ্যাপেন্ডিসাইটিসের লক্ষণ থাকে তবে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে দেখা করা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিরোধ:

  • অ্যাপেন্ডিসাইটিস প্রতিরোধের কোন নিশ্চিত উপায় নেই।
  • তবে, উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত ব্যায়াম করা অ্যাপেন্ডিসাইটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top