কৃত্রিম দাঁত যত্ন করার উপায়

কৃত্রিম দাঁত হলো মুখের ভেতরে দাঁত হিসেবে ব্যবহার করা হয় এমন একটি কৃত্রিম কাঠামো। মানুষের প্রাকৃতিক দাঁত যখন পড়ে যায় তখন কৃত্তিম দাঁত লাগানোর প্রয়োজন পড়ে। এই কৃত্রিম দাতের মাধ্যমে মানুষের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং খাবার চিবানোর প্রয়োজন মিটিয়ে থাকে। বর্তমানে বিভিন্ন প্রকারের কৃত্রিম পাওয়া যায়।

দাঁত হারালেই কেবল দাঁতের গুরুত্ব বোঝা যায় দাঁত হারিয়ে কৃত্রিম দাঁত সংযোজন এর জন্য কয়েকটি জনপ্রিয় পদ্ধতি আছে। এটি এক বা একাধিক দাঁতের পরিবর্তে ব্যবহার করা যেতে পারে। কৃত্রিম দাঁতের যত্ন নেওয়ার মাধ্যমে এটিকে দীর্ঘস্থায়ী করা এবং ভালোভাবে কাজ করা নিশ্চিত করা যায়। খাওয়া-দাওয়া।

কৃত্রিম দাঁত যত্ন করার উপায়
কৃত্রিম দাঁত যত্ন করার উপায়

কৃত্রিম দাঁতকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়

  • স্থির দাঁত:  ক্রাউন বাক্যাব এবং ফ্রিজ বা ফিক্সড দাঁত বাঁধায় সাধারণত স্থায়ীভাবে করা হয়। স্থির দাঁত হলো এমন দাঁত যা মুখের মধ্যে নির্দিষ্ট স্থানে স্থায়ীভাবে বসানো হয়। এটি এক বা একাধিক দাঁতের পরিবর্তে ব্যবহার করা যেতে পারে। স্থির দাঁত স্থাপন করার জন্য সাধারণত দন্ত চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়। দন্ত চিকিৎসক রোগীর দাঁতের অবস্থা পরীক্ষা করে এবং স্থির দাঁত স্থাপনের জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি নির্ধারণ করেন।
  • অপসারণযোগ্য দাঁত: অপসারণযোগ্য দাঁত হলো এমন দাঁত যা মুখের মধ্যে থেকে বের করা যায়। অপসারণযোগ্য দাঁত দাঁতগুলোকে বিচ্ছিন্ন করা যেতে পারে। এটি এক বা একাধিক দাঁতের পরিবর্তে ব্যবহার করা যেতে পারে। অপসারণযোগ্য দাঁত স্থাপন করার পর রোগীদের কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। আর এই নিয়মগুলো মেনে চললে অপসারণযোগ্য দাঁত ভালো থাকে এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়।

কৃত্রিম দাঁতকে সংশোধনের জন্য তিনটি জনপ্রিয় পদ্ধতি নিছে আলোচনা করা হলো

ডেঞ্চার পদ্ধতি:

এই পদ্ধতি অনেকদিন ধরে চলে আসছে। এই পদ্ধতিতেম কৃত্রিম দাঁত লাগানোর সময় কম এবং খরচ কম বলে অনেকে এই পদ্ধতিতে পছন্দ করে থাকে। কিন্তু এতে সমস্যা হল এর সঙ্গে বাড়তি প্লেট বা অংশ থাকে ফলে কিছুটা অস্বস্তি অনুভূতি হয়। প্রতি রাতে এই দাঁতগুলি খুলে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়, জিব্বা নাড়াচাড়াতে সমস্যা হয় , খাওয়ার সময় খাবারের স্বাদ পাওয়া যায় না অর্থাৎ সাধ কমে যায়, এবং কথা বলতে সমস্যা সৃষ্টি করে প্রবৃত্তির কারণে এটা অনেকের কাছে আরামদায়ক হয় না।

ব্রিজ দাঁত:

ব্রিজ দাঁত হলো একাধিক দাঁতের উপর স্থাপিত একটি কৃত্রিম কাঠামো। ব্রিজ সাধারণত দুটি বা ততোধিক দাঁতের উপর স্থাপন করা হয়। এই পদ্ধতিতে পাশের সুস্থ অর্থাৎ ভালো দাত কে কাজে লাগিয়ে হারানো দাঁত কে ফিক্সড করে লাগানো হয়। এতে অনেকে মনে করেন ভাল ধাত্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই দাঁত সাধারণত ধাতু, প্লাস্টিক বা সিরামিক দিয়ে তৈরি করা হয়। এই পদ্ধতিতে সম্পূর্ণ বিজ্ঞান ভিত্তিক এবং নিরাপদ আরামদায়ক পদ্ধতি। ব্রিজ স্থাপনের জন্য সাধারণত দন্ত চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়। দন্ত চিকিৎসক রোগীর দাঁতের অবস্থা পরীক্ষা করে এবং ব্রিজ স্থাপনের জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি নির্ধারণ করেন।

ইমপ্লেমেন্ট দাঁত:

ইমপ্লেমেন্ট দাঁত হলো এমন একটি কৃত্রিম দাঁত যা চোয়ালের হাড়ের মধ্যে স্থাপন করা হয়। ইমপ্লেমেন্ট দাঁত সাধারণত স্তম্ভ দেয়ালে ড্রিল করে অনেকটা স্ক্রু লাগানোর মত দাঁত না থাকা চোয়াল এর হারের মধ্যে প্রতিস্থাপন করা হয় এবং এর উপর দাঁত লাগানো হয় যেটা পুরোপুরি প্রকৃত দাঁতের মতোই মনে হয়।

কৃত্রিম দাঁত যত্ন
কৃত্রিম দাঁত যত্ন

কৃত্রিম দাঁত যত্ন করার উপায় সমূহ

  • প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে দাঁত খুলে পরিষ্কার করুন এবং একটি পরিষ্কার কৌটায় পরিষ্কার পানিতে ডুবিয়ে রাখুন।
  • প্রতিবার খাবারের পরে অপসারণযোগ্য দাঁত ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • এই কৃত্রিম দাঁতগুলোকে নিয়মিত ব্রাশ করতে হবে। ব্রাশ করার জন্য নরম শলা কাঠ ব্যবহার করতে হবে।
  • নিয়মিত দন্ত চিকিৎসকের কাছে অপসারণযোগ্য দাঁতের নিয়ন্ত্রণ করান।
  • টুথপেস্ট এর চেয়ে কৃত্রিম দাঁতগুলো তরল সাবান ডিশ ওয়াশিং লিকুইড দিয়ে খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করতে পারবেন।
  • সপ্তাহে একবার দাঁতকে পরিষ্কারক দিয়ে পরিষ্কার করুন।
  • কৃত্রিম দাঁতের মধ্যে অপসারণ যোগ্য দাঁতগুলো সাধারণত প্লাস্টিকের হয়ে থাকে। এই দাঁতগুলো অল্প আঘাতেই ভেঙে যেতে পারে বলে সাবধানে ধরতে হবে এবং তা পরিষ্কার করতে হবে।
  • দাঁতকে আঘাত থেকে রক্ষা করুন।
  • কৃত্রিম দাঁতগুলো নিজে নিজে জোর করে বাঁকানো বা সোজা করার চেষ্টা করা যাবে না। নিয়মিত রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত খুলে পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে। বর্তমানে দাঁত রাখার দ্রবণও পাওয়া যায় কিনে নিতে পারেন। রাতের বেলায় কৃত্রিম দাঁতগুলো খুলে ঘুমাতে গেলে শরীরের কোষগুলো সুস্থ থাকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top