গ্যাসের সমস্যা থাকলে সকালে যে সকল খাবার খাওয়া যাবে না

অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন, ধূমপান এবং ভেজাল খাবারের কারণে বর্তমানে আমাদের প্রায় সকলেরই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তবে নিয়মমাফিক জীবন যাপন করলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে পরিত্রান পাওয়া যায়। যদি আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকে তাহলে সকল ধরনের খাবার খেতে পারবেন না। এজন্য আপনাকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে খাবারের প্রতি এবং জীবন যাপনের প্রতি।

দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয় সকালের নাস্তা কে। এই সময়কার খাবারেই আপনাকে শক্তির যুগে থাকে। সেজন্য আপনের সকালে কি খাচ্ছেন সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের খাবার গ্রহণের কারণে পেট খাবার মত সমস্যা দেখা দেয় এটি একটি সাধারণ ঘটনা। কারণ শরীর যখন এই খাবার হজম করে ঠিক ওই সময় গ্যাস তৈরি করে থাকে। সেজন্য হজম প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে যত সময় লাগবে গ্যাস সৃষ্টি হতে ঝুঁকি তত বাড়বে। আর এর হলেই আপনার পেটের সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। আপনার গ্যাসের সমস্যা কমাতে অবশ্যই সকালে নাস্তায় আপনাকে এই সকল খাবার পরিহার করতে হবে।

গ্যাসের সমস্যা থাকলে সকালে যে সকল খাবার খাওয়া যাবে না
গ্যাসের সমস্যা থাকলে সকালে যে সকল খাবার খাওয়া যাবে না

সকালে যে সকল খাবার গ্রহণ করা যাবে না

কফি এবং চা

আমাদের মাঝে অনেকেই আছেন যারা সকালবেলায় খালি পেটে এক কাপ চা বা কপি ছাড়া দিন শুরুই করতে পারেন না। এইটা অতিরিক্ত পরিমাণে পান করলে পেটের এসিডের পরিমাণ বেড়ে যায় যার ফলে গ্যাসের সৃষ্টি হয়ে থাকে। আবার অনেকে চায়ের সাথে দুধ মিশিয়ে খান এতে লেক্টুস ইন্টলারেন্স বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করে ফলে হজমের সমস্যা হয়ে থাকে। আপনার যদি সকালে ঘুম থেকে উঠে চা খাওয়ার অভ্যাস থাকে তাহলে আপনি ভেষজ চা পান করতে পারেন।

বাঁধাকপি ও ফুলকপি

নিঃসন্দেহে বাঁধাকপি ও ফুলকপি বেশ উপকারী একটি সবজি। এই প্রকারের সবজি সকালে এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। আপনি এই খাবারগুলি সকালের পরিবর্তে দুপুরে খেয়ে নিতে পারেন। এই সকল সবজিতে কার্বোহাইড্রেট থাকে যা হজম হতে সময় নিয়ে থাকে। যার ফলশ্রুতিতে পেটে গ্যাসের সৃষ্টি হয়ে থাকে।

মসলাদার বা ঝাল যুক্ত খাবার

আপনার খালি পেটে কখনোই মসলাদার খাবার ঠিক হবে না। এতে করে আপনার পেটের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। যদি খালি পেটে মসলাদার খাবার খান তাহলে এসিডিটিক বিক্রিয়ার ফলে পেটের জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করবে। নিয়মিত তার জাতীয় খাবার গ্রহণ করার ফলে পাকস্থলীতে বিভিন্ন ধরনের রোগের সৃষ্টি হতে পারে।

নাশপাতি ও আপেল

আপেল পুষ্টি গুনাগুনে ভরপুর। কিন্তু এই ফল আপনি সকালবেলায় নাসা হিসেবে খেতে পারেন না। নাশপাতি এবং আপেলে রয়েছে ফ্রকটোজ  এবং ফাইবার যা পেট ফাঁপা বা গ্যাসের কারণ হয়ে থাকে।

পেঁয়াজ ও শসা

আপনার যদি সকালের নাস্তা পেঁয়াজ এবং শসা দিয়ে সালাত খাওয়ার অভ্যাস থাকে তাহলে এখনি তা বন্ধ করে দিন। কারণ কাঁচা শাকসবজি বিশেষ করে শসা ও পেঁয়াজে রয়েছে ফাইবার। যা ভাঙতে সমস্যা সৃষ্টি করে হলে ঘাসের সৃষ্টি হয়ে থাকে।

মিষ্টি জাতীয় খাবার

আমরা অনেকেই দিনের প্রথম অংশে অর্থাৎ সকালবেলায় খালি পেটে মিষ্টি বা জুস ফল খেয়ে থাকি। এর ফলে সরাসরি এর প্রভাব পড়ে আপনার হজম শক্তির উপর। এজন্য মিষ্টি জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে। এজন্য খালি পেটে শরীরে ইনসুলিন মাত্রা বাড়িয়ে দেয় যার ফলে ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

ভুট্টা

ভুট্টা রয়েছে সেলুলুজ। এই ভোটটা কারো কারো জন্য হজমে সমস্যা সৃষ্টি হয়ে থাকে। যদি আপনার এই ভোটটা ধরে খাবার খাওয়ার ফলে ঘেষে সৃষ্টি হয়ে থাকে তাহলে আপনি এটি থেকে বিরত থাকতে থাকতে পারেন।

খালি পেটে টক জাতীয় খাবার খাওয়া

সাইট্রিক এসিডযুক্ত বিভিন্ন প্রকারের ফল খালি পেটে খেলে এসিডিটির সমস্যা তৈরি করে। যেমন জাম, লেবু, কমলা, ও  আঙ্গুর ইত্যাদি। তাছাড়া খালি পেটে ফল না খাওয়াই ভালো।

এছাড়াও, গ্যাসের সমস্যা থাকলে সকালে নিচের বিষয়গুলো মেনে চলা উচিত:
  • নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।
  • ভারী খাবার খাওয়া পরিহার করতে হবে।
  • খাবার ভালো করে চিবিয়ে খাবেন।
  • ধূমপান এবং অ্যালকোহল পান অভ্যাস থাকলে এগুলো ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
  • খাওয়ার পর পর দ্রুত হাঁটবেন না বা শুয়ে পড়বেন না।
নিচে কিছু খাবারের তালিকা দেওয়া হল যা গ্যাসের সমস্যা থাকলে আপনি সকালে খেতে পারেন:
  • পেঁপে
  • ডিম
  • দই
  • টোস্ট
  • কেলা
  • ওটমিল

এসকল খাবারগুলো হজম করা সহজ এবং গ্যাস তৈরি করে না।

গ্যাসের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে একজন চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ নিবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top