ঘরোয়া উপায়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখুন

ডায়াবেটিস আক্রান্ত হলে বিভিন্ন রকমের স্বাস্থ্য জটিলতার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকে বেড়ে যায়। অনেক সময় দেখা যায় কোন লক্ষণ ছাড়াই বিভিন্ন রোগের শরীরের মাঝে বাসা বেধে থাকে। আর এ জন্য এই সকল স্বাস্থ্য জটিলতা থেকে রক্ষা পেতে ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত ডায়াবেটিস চেকআপ বা স্বাস্থ্য পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই নিয়মিত চেকারের মাধ্যমে ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণ আছে কিনা সেটি জানা যায়। এবং এর উপর ভিত্তি করে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

রক্তে স্বাভাবিকের চেয়ে শর্করার পরিমাণ দীর্ঘদিন ধরে থাকলে ডায়াবেটিস দেখাতে পারে। ডায়াবেটিস অনেকটা বংশগত কারণে বা পরিবেশের উপরেও হয়ে থাকে। এই ডায়াবেটিস যে কোন বয়সের হতে পারে। কারো ডায়াবেটিস হয়ে গেলে এর থেকে শতভাগ পরিত্রান পাওয়া যায় না। এটা ডায়াবেটিস আজীবনের জন্য হয়ে থাকে। তবে কিছু চিকিৎসা এবং ধরনের মাধ্যমে এই ডায়াবেটিস কে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ডায়াবেটিস কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। আবার অনেকে ধারণা করে থাকেন যে এটা যারা বেশি করে মিষ্টি খান তাদের হয়ে থাকে কিন্তু এটি আসলে ভুল ধারণা। জীবনযাপনের শৃঙ্খলা এবং খাদ্য নিয়ন্ত্রণ এবং কিছু ওষুধের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

ঘরোয়া উপায়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখুন
ঘরোয়া উপায়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখুন

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ঘরোয়া উপায়

গ্রিন টি

প্রতিদিন গ্রিন টি পান করলে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়। গ্রিনটি ডায়াবেটিস প্রতিনিধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

পাকা পেঁপে

পাকা পেঁপে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা

শরীরের ওজন স্বাস্থ্যকর বা বি এম আই অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ রাখার মাধ্যমে শুধু ডায়াবেটিস কি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এমনটি নয় আপনি বিভিন্ন ধরনের রোগ নিয়ন্ত্রণ করে রাখতে পারবেন সেই সাথে আপনার জীবনকে সুস্থ জীবন যাপনে পরিপূর্ণভাবে পালন করতে পারবেন। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে ডায়াবেটিস আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৭০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব।

নিয়মিত হাটাহাটি করার অভ্যাস

নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত প্রতিদিন সকালে অন্তত ৩০ মিনিট হাটাহাটি করে অনেকটাই কমে থাকবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ঘরোয়া উপায়
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ঘরোয়া উপায়
তুলসী পাতা

তুলসী পাতা কে বলা হয় ডায়াবেটিসের প্রাকৃতিক ইনসুলিন। প্রতিদিন নিয়মিত করেন তুলসী পাতার রস পান করতে পারলে রক্তের সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে আসে। তুলসী পাতার রস আপনি চা করেও খেতে পারেন।

খাবারের সাথে সালাত খাওয়া

প্রতিদিন প্রতিবেলা খাবারের সাথে সালাত রাখতে পারেন। এই সালাতের মধ্যে টমেটো পেঁয়াজ রসুন ইত্যাদি রাখতে পারেন। সালাতে এক চা চামচ ভিনেগার যুক্ত করে এর স্বাদ বাড়িয়ে নিতে পারেন। এই ভিনেগার রক্তকে কম মাত্র সুগার শোষণ করতে সহায়তা করে থাকে। এতে করে রক্তের চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ থাকলে ডায়াবেটিস ঝুঁকি অনেকটা কমে যাবে।

মেথি

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মেথি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। মেথিতে রয়েছে ফাইবার। যা হজমে খুবই সহায়ক হিসেবে কাজ করে থাকে। এই মেথি গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে রাখতে সাহায্য করে। আপনি এটি নিয়মিত প্রতিদিন রাতে দুই টেবিল চামচ মেথি পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালবেলায় খালি পেটে পান করতে পারেন। এটি আপনি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখার মাধ্যমে অন্যান্য রোগের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দিবে।

গাজর

গাজর ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি সবজি। ডায়াবেটিসের গাজর খেতে পারলে তাদের অনেক উপকার আসবে। কাজের কাজের রয়েছে ফাইবার এটি রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে সাহায্য করে থাকে পাশাপাশি চোখের জন্য ভালো উপকারী।

কফি পান করা

প্রতিদিন দুই কাপ কফি পান করার মাধ্যমে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ২৯ শতাংশে কমিয়ে আনতে পারবেন। কফি পান করার সময় আপনাকে চিনি পরিহার করতে হবে। কফিতে রয়েছে এন্টি এক্সিডেন্ট উপাদান।

দারুচিনি

রোগীরা প্রতিদিন নিয়মিত করে তিন থেকে চার গ্রাম দারচিনি খায় তাদের রক্তের শর্করা পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এটি রক্তের সংবেদনশীলতা এবং গ্লুকোজের মাত্রা কমিয়ে আনতে পারে সেজন্য ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ফাস্ট ফুড খাবার পরিহার করা

আপনাকে ফাস্টফুড জাতীয় খাবার পরিহার করতে হবে। এ সকল খাবারে দেহের ইনসুলিন মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিবে যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিবে।

পালংশাক

সবুজ শাক সবজির মাঝে পালং শাক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। পালং শাক খাওয়ার মাধ্যমে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। পাশাপাশি রক্তের ইনসুলিন এর পরিমাণও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকা

মানসিক চাপ অনেক অংশ আপনার ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। মানসিক চাপ থেকে নিজেকে সবসময় মুক্ত রাখার চেষ্টা করুন। এতে করে আপনার দেহের হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ থাকবে এবং ডায়াবেটিস ঝুকি কমবে।

করলা

একটি অত্যন্ত ভিটামিন সমৃদ্ধ সবজি। নিয়মিত করলা খাওয়ার মাধ্যমে গ্লুকোজ এর মাত্রা কমিয়ে আনা সম্ভব সেই সাথে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে রাখা সম্ভব।

টমেটো

টমেটো ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সবজি। এই টমেটোতে রয়েছে শক্তিশালী এন্টিঅক্সিডেন্ট যা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে থাকে। এটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। টমেটো হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো উপকারে।

সীমিত খাবার খাওয়া

ডায়াবেটিস রোগীদের বিশেষ করে রাতে খুব বেশি খাবার খাওয়া যাবেনা। কারণ রাতের বেলায় অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার ফলে রক্তের সুগারে পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। আর এজন্য রাতের খাবার যতটা সম্ভব কমিয়ে খাওয়া চেষ্টা করা উচিত।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top