ঠান্ডায় নাক বন্ধ হলে ঘরোয়া চিকিৎসা করুন

বর্তমানে এই মৌসুমে ঘর থেকে বের হলেই শীতে হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। আর এই সময়ই সাধারণত সর্দি কাশির সমস্যা দেখা দেয় বেশি বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। আর এই সর্দির কারণে অনেকের নাক বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়ে থাকে অনেকের। খুবই বিরক্তিকর এবং যন্ত্রণাদায়ক হয়ে থাকেন অনেকের কাছে। শীতকালে এলার্জি থেকে নাক দিয়ে পানি পড়া, গলা খুসখুস হওয়া, চোখের লাল ভাব হওয়া, কাশি থাকা সেই সাথে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয় যা খুব সাধারণ বিষয়। নাক বন্ধ হওয়া প্রকৃতপক্ষে শরীরে প্রদয়ের সঙ্গে জড়িত থাকে। অনুনাশিক গহ্বরে একটি আস্তরণ যখন অতিরিক্ত প্রদাহের মাধ্যমে নাসারন্ধ্র সমস্যা সৃষ্টি করে। তখন বায়ু চলাচলের প্যাসেজগুলো শুরু হয়ে গিয়ে বায়ুপ্রবাহকে সংকুচিত করে এর ফলে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়াটা কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় হয়তো বেশ কিছুদিন নাক বন্ধ থাকতে পারে। এ সময় কোন গন্ধ পাওয়া যায় না অর্থাৎ ঘ্রান শক্তি থাকে না। এতে নাকের ভেতরে জ্বলীয়ভাব কমতে থাকে এর ফলে সর্দি সেই সাথে কাশির সৃষ্টি হতে পারে।

নাক বন্ধ হলে দ্রুত পরিত্রাণের জন্য অনেকে ওষুধের সাহায্য নিয়ে থাকেন বা নোজল ড্রপ ব্যবহার করেন। তবে এক্ষেত্রে ওষুধের অতিরিক্ত ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতি হয়ে থাকে। সেই সাথে এই সকল ঔষধ অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে একটা সময় এসে ওষুধে আর তেমন কাজ করে না।

ঠান্ডায় নাক বন্ধ হলে ঘরোয়া চিকিৎসা করুন
ঠান্ডায় নাক বন্ধ হলে ঘরোয়া চিকিৎসা করুন

ঠাণ্ডা নাক বন্ধ হওয়ার লক্ষণ

  • ঠান্ডা লাগার ফলে নাক দিয়ে ঘন, সবুজ বা হলুদ শ্লেষ্মা বের হতে পারে।
  • ঠাণ্ডা লাগার অন্যতম প্রধান লক্ষণ হল নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া। এটি ঘটে কারণ ঠান্ডা লাগার ফলে নাকের ভেতরের ঝিল্লি ফুলে যায় এবং শ্লেষ্মা তৈরি বৃদ্ধি পায়।
  • নাক বন্ধ থাকার ফলে ঘুমাতে অসুবিধা হতে পারে।
  • নাক বন্ধ থাকার ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে।
  • নাক বন্ধ থাকার ফলে গন্ধ ও স্বাদের অনুভূতি কমে যেতে পারে।
  • কানের ভেতরের চাপ ভাব অথবা কান বন্ধ ভাব হতে পারে।
  • মাথা ব্যথা সাথে দাঁত ব্যথা হতে পারে।
আধা চা
আধা চা

ঠান্ডায় নাক বন্ধ হলে ঘরোয়া চিকিৎসা

  • একটি পাত্রে গরম পানি নিয়ে এর মধ্যে একটি সুতি কাপড়ের ডুবিয়ে ভালো করে চেপে নিতে হবে। এবারে রুমাল নাকে মুখে দিয়ে রাখেন ৫ থেকে ১০ মিনিট। এইভাবে তিন থেকে চার বার করেন। এভাবে করলে নাক বন্ধ অনেকটা কেটে যাবে এবং মনে করবেন।
  • একচা চা-মচ আপেল সিডার ভিনেগারের সাথে গরম পানি মিশিয়ে নিয়মিত পান করুন। এই পানি দিনের দুইবার পান করতে পারেন। এই ভিনেগার থাকা অ্যাসিটিক অ্যাসিড ও পটাশিয়াম নাক বন্ধক খোলা রাখতে সাহায্য করে থাকে। আপনার বুকের ভাইরাস ও কফ অপসারণ দূর করতে সাহায্য করে থাকে।
  • কিছু পুদিনা পাতা নিয়ে গরম পানির সাথে কিছুক্ষণ রেখে দিন। এরপর পাঁচ থেকে দশ মিনিট সেদ্ধ পানি গরম করে নিন। এই মিশ্রণটি দিনে দুইবার চায়ের মত করে পান করতে পারেন। পুদিনা মিশ্রিত পানি বুকের প্রদাহ কমায় এবং বন্ধ থাকা না দিয়ে নিঃশ্বাস প্রশ্বাস নিতে সাহায্য করে থাকে।
  • এক গ্লাস গরম পানিতে এক টেবিল চা-চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি দিনে কয়েকবার পান করুন। লেবুর ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং নাকের সংক্রমণ দূর করতে সাহায্য করবে।
  • আধা চা চামচ লবণ নিয়ে এক গ্লাস পানিতে মিশ্রিত করুন। এবার আপনার নাক দিয়ে এই মিশ্রিত পানি টেনে ভিতরে নেওয়ার চেষ্টা করো। এভাবে আপনি দিনে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করতে পারেন। প্রয়োজনে আপনি ড্রপের মাধ্যমে না কেউ দিতে পারেন। ড্রপ ব্যবহারের মাধ্যমে দুই থেকে তিন ফুটের বেশি দেওয়া যাবে না।
  • ঘুমের সময় মাথা উঁচু করে রাখলে নাকের বন্ধ ভাব কিছুটা কম হতে পারে।
  • নাকের মিউকাস পরিচয় করতে গ্রিন টির অনেক উপকারী। এতে করে নাক পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি শরীর থেকে টক্সন দূর হয়ে যায়।
  • ঠান্ডা এই বন্ধ নাক গোল মরিচের মাধ্যমে খুব সহজেই নাক খুলে যায়।
  • এক টেবিল চা-চামচ রসুন কুচি, এক কাপ টমেটো রস, ঝালযুক্ত সস, এক টেবিল চা চামচ লেবুর রস এবং এক সিমটির লবণ একত্রে মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি দিনে দুইবার পান করতে পারেন। নাক বন্ধ ভাব কাশি ঠান্ডা খুব দ্রুতই কেটে যাবে এর মাধ্যমে।
  • একটি পেঁয়াজ কেটে টুকরো করে নিন। টুকরোগুলো নাকের কাছে রেখে ৫ মিনিট গন্ধ নিন। পেঁয়াজের ঝাঁঝালো গন্ধ নাকের মিউকাস পাতলা করে এবং নাক খুলতে সাহায্য করবে।

  • তুলসীর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ভাইরাল গুণ নাক বন্ধ হওয়া দূর করতে সাহায্য করে। তুলসীর পাতা চিবিয়ে খান অথবা তুলসী পাতা দিয়ে চা বানিয়ে পান করুন।

সমস্যা যদি প্রকট হয়ে থাকে তাহলে নাক কান গলার চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top