ডায়াবেটিস রোগীর জন্য টিপস

ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যা শরীরের পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে না পারা ভাসুরেরকে শরীরে কার্যকর ভাবে ইনসুলিন না পারার কারণে হয়ে থাকে। ইনসুলিন রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আমাদের খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও খাবারের জন্য না নিলে তারা রক্তে শর্করার পরিমাণও বাড়িয়ে দিতে পারে।

ডায়াবেটিস হল একটি গুরুতর, দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা যেটি যখন ঘটে রক্তের সুগার এর মাত্রা দীর্ঘসময় ধরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। সুগার হল শরীরের প্রধান শক্তির উৎস, এবং এটি খাবার থেকে আসে। ইনসুলিন হল একটি হরমোন যা শরীরের কোষগুলোকে সুগার ব্যবহার করতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

ডায়াবেটিস রোগীর জন্য টিপস
ডায়াবেটিস রোগীর জন্য টিপস

ডায়াবেটিস রোগীদের নিম্নলিখিত টিপসগুলি অনুসরণ করা উচিত:

  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন: নিয়মিত ব্যায়াম রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট মাঝারি-তীব্রতা সম্পন্ন ব্যায়াম করা উচিত।
  • স্বাস্থ্যকর খাবার খান: ডায়াবেটিস রোগীদের উচিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, যার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি, ফলমূল এবং পুরো শস্য। এগুলি কম ক্যালোরি, ফাইবার এবং পুষ্টিতে সমৃদ্ধ। ডায়াবেটিস রোগীদের উচিত প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার এবং চর্বিযুক্ত খাবার এড়ানো উচিত।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। ডায়াবেটিস রোগীদের তাদের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।
  • রক্তের শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করুন: ডায়াবেটিস রোগীদের উচিত তাদের রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করা। এটি তাদের রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জটিলতাগুলি এড়াতে সহায়তা করবে।
  • নিয়মিত ডাক্তারের সাথে দেখা করুন: ডায়াবেটিস রোগীদের উচিত নিয়মিত তাদের ডাক্তারের সাথে দেখা করা। এটি তাদের রক্তের শর্করার মাত্রা, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যের লক্ষ্যমাত্রাগুলি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করবে।
  • ধূমপান ত্যাগ করুন: ধূমপান রক্তের শর্করার মাত্রা বাড়ায় এবং ডায়াবেটিস জটিলতাগুলির ঝুঁকি বাড়ায়। ডায়াবেটিস রোগীদের উচিত ধূমপান ত্যাগ করা।
  • আপনার লক্ষ্যমাত্রাগুলি সম্পর্কে জানুন: আপনার ডাক্তার আপনাকে আপনার জন্য কোন রক্তের শর্করার লক্ষ্যমাত্রাগুলি উপযুক্ত তা বলতে পারবেন।
  • আপনার চিকিত্সার পরিকল্পনা অনুসরণ করুন: আপনার ডাক্তারের নির্দেশাবলী অনুসরণ করা আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।
  • কোনও জটিলতা দেখা দিলে আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন: যদি আপনার ডায়াবেটিসের কারণে কোনও জটিলতা দেখা দেয়, তাহলে আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
  • আপনার রক্তের শর্করার মাত্রা ট্র্যাক করুন: আপনার রক্তের শর্করার মাত্রা ট্র্যাক করা আপনাকে আপনার লক্ষ্যমাত্রাগুলির কাছাকাছি থাকতে সাহায্য করবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

  • প্রতিবার খাবার খেতে হবে সময়মতো
  • আপনি কি পরিমাণ খাচ্ছেন এটাই বড় গুরুত্বপূর্ণ। তৈরি করা খাবার বেশি পরিমাণে না খেয়ে কম কম পরিমাণে খেতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলেন ভাত না খেয়ে রুটি খেতে। অবশ্য এই রুটি গুলি খেতে হবে পরিমাণ মতো।
  • আঁশযুক্ত শস্য খাবার খাওয়ার পরিমাণ বাড়াতে হবে। ময়দার রুটি আর মিলে ছটা চালের বদলে লাল আটার রুটি বা ঢেকে ছাটা চালের ভাত ডায়াবেটিসদের জন্য অনেক উপকার। আলু যতটা পারা যায় কম খেতে হবে। আলু খেতে হলে অবশ্যই রুটি বা ভাত এর পরিবর্তে খেতে হবে।
  • খাওয়ার সময় অতিরিক্ত লবণ খাওয়া পরিহার করুন এবং চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করুন। প্রতিদিন নিয়মিত কিছু পরিমাণ শাকসবজি এবং ফলমূল খাবেন।
  • কোমল পানীয় বাম ফাস্টফুড খেতে বিরত থাকুন। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করুন।
  • বিভিন্ন প্রকার অনুষ্ঠানে পরিবেশিত অসংখ্য খাবার থেকে বিরত থাকুন।
  • প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাস করুন।
  • একটানা বেশি সময় বসে কাজ করবেন না। বিশেষ করে কম্পিউটার বা কাজের ফাঁকে উঠে ১০ মিনিট করে হাঁটবেন।
  • মদ্যপান বা ধূমপান পরিহার করুন।
  • মিষ্টি খাওয়া পরিহার করুন।
  • রক্তে চিনির মাত্র উপর নিয়ন্ত্রণ রাখুন।

নিচের লক্ষণ গুলো দেখা দিলে অবশ্যই সতর্ক থাকবেন

  • ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া এবং পানির পিপাসা লাগা।
  • দুর্বল অনুভব করা এবং মাথা ঘোরা।
  • ক্ষুধার অনুভব বেড়ে যাওয়া।
  • নিয়মিত খাওয়া না হলে রক্তের শর্করা কমে হাইপো হওয়া।
  • আপনার মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যাওয়া।
  • কোন কারণ ছাড়াই আপনার অনেক ওজন কমে যাওয়া।
  • আপনার শরীরের ক্ষত বা কাটা হলে দীর্ঘসময় না শুকানো।
  • আপনার চামড়ায় খসখসে শুষ্ক এবং চুলকানি ভাব হলে।
  • আপনার মেজাজ খিটখিটে হওয়া।
  • আপনার চোখের কম দেখা। দেখি

ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদী রোগ, তবে সঠিক চিকিৎসা এবং জীবনধারা পরিবর্তনগুলির মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top