ডালিমের পুষ্টিগুণ ও খাওয়ার উপকারিতা

ডালিমের স্বাদ এবং রঙের বাইরেও রয়েছে একটি উপকারিতা সেটা হল এতে পুষ্টিতে ভরপুর।  ডালিমের মাঝে রয়েছে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ গুনাগুন। এই ফল কিছুটা দামী হওয়ার কারণে অনেকেই খেতে চান না বা ক্রয় করার সাধ্যের মধ্যে নেই। যদি আপনি নিয়মিত ডালি ম বা বেদেনা খেতে পারেন তাহলে দেহের বহু উপকার হবে।

ডালিম বা বেদনার পুষ্টিগুণ

ডালিম একটি মজাদার এবং পুষ্টিকর ফল। এই ফলটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টিগুণ। এক কাপ ডালিমের দানার মধ্যে রয়েছে আপনার দৈনন্দিন চাহিদার ৩০% ভিটামিন সি, ৩৬ শতাংশ ভিটামিন কে, ১৬ শতাংশ ভিটামিন ৯, এবং ১২ শতাংশ পটাশিয়াম। হালিমের মাঝে প্রচুর পরিমাণে ফসফরাস রয়েছে যা কমলা আম এবং আপেলের চেয়েও চার গুণ বেশি এবং কি আঙ্গুর ও আতার চেয়েও দ্বিগুণ। ডালিম এর যে পরিমাণ ফসফরাস রয়েছে বরই এবং আনারসের চেয়েও প্রায় সাত গুণ বেশি।

ডালিমভাবে দাঁতে ক্যালরি এবং চর্বির পরিমাণ খুবই কম তবে, ভিটামিন, ফাইবার, এবং খনিজ উপাদানে ভরপুর। একটি মাঝারি আকারের ডালিমের মধ্যে ২৩৪ ক্যালোরি, ৩.৩ গ্রাম চর্বি, ১.৭ গ্রাম প্রোটিন, এবং ১০.৩ গ্রাম ফাইবার রয়েছে।

ডালিমের পুষ্টিগুণ ও খাওয়ার উপকারিতা
ডালিমের পুষ্টিগুণ ও খাওয়ার উপকারিতা

ডালিমের উপকারিতা

ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

ডালিমের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের কোষের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। ফলে ত্বক সুস্থ ও মসৃণ থাকে।

দেহের ত্বক উজ্জ্বল এবং সুস্থ রাখতে সাহায্য করে

ত্বক সুস্থ রাখতে ডালিম থেকে অনেক উপকার পাওয়া যাবে ডালিম খাওয়ার মাধ্যমে। ডালিম পোমেগ্রেনেট তেল হিসেবে ভালো কাজ করে। ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ কে প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে থাকে এই ডালিম এর তেল। তাছাড়াও এতে ফলিক এসিড ভিটামিন সি স্বাস্থ্য বজায় রাখতে বেশ উপকারী।

হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

ডালিমের পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এসব খনিজ হাড়ের গঠন ও শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে

ডালিমের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্কের কোষের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। ফলে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে ডালিম বেশ কার্যকর।

রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে

ডালিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফলিক এসিড বা আয়রন যা রক্তস্বল্পতা দূর করার জন্য বেশ উপকারী। এটি নিয়মিত খেলে রুচি বৃদ্ধি কোষ্ঠকাঠিন্য রূপ প্রতিরোধ খুবই সাহায্য করে থাকে।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে

ডালিমের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ডালিম বেশ কার্যকর। তাই এখন থেকে ডালিম খাওয়া শুরু করেন। দেখবেন নিয়মিত ডালিম খাওয়ার কারণে আপনার ডায়াবেটিস শুরুরি কখনো দেখা দেবে না। কারণ এই ডালিম খাওয়ার ফলে শরীরে এমন কিছু পরিবর্তন হয় যে রক্তের সুগার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

দাঁতের যত্নে ডালিম

ডালিম এ রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট যাতে প্লাক জমতে দেয় না। তাছাড়া আমার এর রোগ প্রতিরোধে ভূমিকা অপরিসীম এই ডালিমের। আর তাই দাঁত ভালো রাখার জন্য আপনি প্রতিদিন ডালিম খেতে পারেন।

হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে

ডালিমের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তনালীতে কোলেস্টেরল জমে যাওয়া রোধ করে। এছাড়াও, ডালিমের পিউনিক অ্যাসিড রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে হৃদরোগ প্রতিরোধে ডালিম বেশ কার্যকর।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে

ডালিমের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পিউনিক অ্যাসিড রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে

ডালিমের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ও বিস্তার রোধে সাহায্য করে।

গলা ব্যথা বা সাধারণ সর্দি কাশি

সর্দি-কাশি অথবা গলা ব্যথা হলে ডালিমের খোসা থেকে তৈরি পাউডার গরম পানিতে ফুটিয়ে গড়গড়া করলে আরাম পাওয়া যায়।

ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ

আপনার শরীরকে সুস্থ রাখতে যে সকল ভিটামিন গুলোর প্রয়োজন পরে প্রতিদিন তার প্রায় সব কোটি এই ডালিমের মধ্যে উপস্থিত। আর তাই দীর্ঘদিন সুস্থ থাকার জন্য ডালিম নিয়মিত খেতে পারেন।

ডালিম খাওয়ার উপকারিতার পাশাপাশিও কিছু এর অপকারিতা রয়েছে। যারা পাতলা পায়খানা এলার্জি অথবা সর্দি কাশিতে ভুগছেন তারা এই ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। যারা এলার্জির সমস্যায় ভুগছেন তারাও ডালিম খাওয়া থেকে বিরত থাকবে। কারণ ডালিমের মাঝে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যেগুলো এলার্জির সমস্যাকে আরো বাড়িয়ে দিবে। মানসিক সমস্যার জন্য ওষুধ খাচ্ছেন অথবা কম উত্তর রক্তচাপের রোগীরাও এ ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। কারণ ডালিম খাওয়ার কারণে আপনার উপকারের চেয়ে উপকার হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top