ত্বক এবং চুলের যত্নে ঘৃতকুমারী ব্যবহার

প্রাচীনকাল থেকেই ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা ব্যবহার হয়ে আসতেছে। অ্যালোভেরা, যা ঘৃতকুমারী নামেও পরিচিত, ত্বক এবং চুলের যত্নের জন্য একটি প্রাকৃতিক এবং কার্যকরী উপাদান। এতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ত্বক এবং চুলের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্পূর্র্ণ। অ্যালোভেরা আর পাতা শেষে তার রস দিয়ে সৌন্দর্যবর্ধন করতেন তখনকার রাজরানীরা বাদশা সুলেমান রানী ক্লিওপেট্রা সম্রাট আলেকজান্ডার সুন্দর অ্যালোভেরা ব্যবহার করতেন। এই ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা ত্বকের পাশাপাশি চুলের যত্নেও ভালো কাজ করে।

ত্বক এবং চুলের যত্নে ঘৃতকুমারী ব্যবহার
ত্বক এবং চুলের যত্নে ঘৃতকুমারী ব্যবহার

ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরাতে কি রয়েছে?

ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরাতে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা ত্বক এবং চুলের জন্য খুবই উপকারী। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

ভিটামিন:

  • ভিটামিন সি: ত্বকের টানটান ভাব বজায় রাখে এবং কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করে থাকে।
  • ভিটামিন এ: ত্বক এবং চুলের কোষ বৃদ্ধি ও পুষ্টিযোগাতে সাহায্য করে থাকে।
  • ভিটামিন B12: ত্বক এবং চুলের কোষ উৎপাদনে সাহায্য করে থাকে।
  • ভিটামিন ই: ত্বক এবং চুলের কোষের ক্ষতি রোধ করতে সাহাজ্য করে থাকে।

খনিজ:

  • ক্যালসিয়াম: ত্বক এবং চুলের শক্তি বৃদ্ধি কর্তে সাহাজ্য করে থাকে।
  • ম্যাগনেসিয়াম: ত্বক ও চুলের কোষের বিপাক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে থাকে।
  • পটাশিয়াম: ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • সোডিয়াম: ত্বকের কোষ ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট:

  • ঘৃতকুমারীতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা ত্বক এবং চুলের কোষের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
  • এতে অ্যান্থ্রাকুইনোন, অ্যালোইন ও ল্যাকটোন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপস্থিত রয়েছে যা ত্বক এবং চুলকে বয়সের ছাপ থেকে রক্ষা করে থাকে।
চুলের যত্নে ঘৃতকুমারী ব্যবহার
চুলের যত্নে ঘৃতকুমারী ব্যবহার
ত্বকের যত্নে ঘৃতকুমারী ব্যবহার
ত্বকের যত্নে ঘৃতকুমারী ব্যবহার

ত্বক ও চুলের যত্নে ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা

  • ঘৃতকুমারীতে আছে এন্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বক থেকে বয়সের ছাপ মুখের ব্রণের দাগ দূর করে থাকে
  • নিয়মিত কুমারের ব্যবহারের তো কে আসে উজ্জ্বলতা। এতে রয়েছে প্রাকৃতিক হাইলাইটা।
  • অ্যালোভেরা জেল ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
  • ঘৃতকুমারীতে এন্টি্লামেটরি এবং এন্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান রয়েছে যা ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে থাকে। এটি নিয়মিত ব্যবহার করার মাধ্যমে ব্রণ দূর করা যায়। অ্যালোভেরার নির্যাসের সঙ্গে ভিটামিন এ ক্যাপসুল মিশিয়ে আপনার থেকে ঘষতে পারেন। এটি নিয়মিত ব্যবহারের মাধ্যমে ধীরে ধীরে আপনার মুখের মেছতার দাগ কমে যাবে।
  • ঘৃতকুমারীতে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং এন্টি ফাঙ্গাল উপাদান রয়েছে যা আপনার চুল পড়া এবং খুশকির সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে।  সেইসাথে আপনার চুলের উজ্জ্বলতার বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে থাকে।
  • চালের গোড়ার সাথে অ্যালোভেরার রস মিশিয়ে ঠোঁটের খুব সহজেই দূর করতে পারেন। এতে আপনার নিয়মিত ব্যবহারের কারণে আপনার ঠোঁটের উজ্জ্বলতা বাড়বে এবং সেই সাথে কোমলতাও বৃদ্ধি পাবে।
  • অ্যালোভেরা জেল ত্বককে হাইড্রেট করতে এবং ময়েশ্চারাইজ করতে সাহায্য করে। এটি শুষ্ক, খুশকি এবং চিড়চিড়ে ত্বকের জন্য উপকারী।
  • অ্যালোভেরার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য ত্বকের বয়সের লক্ষণগুলি, যেমন বলিরেখা এবং কুঁচকি, দেরী করতে সাহায্য করে।
  • অ্যালোভেরা জেল কাটা ও পোড়া দ্রুত সারাতে সাহায্য করে।
  • ঘৃতকুমারের জেল মাথার তুলে লাগান। এরপর দুই ঘন্টা রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নিয়মিত ব্যবহার করলে আপনার চুল পড়ার বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি নতুন চুল গজাতে সাহায্য করবে এই ঘৃতকুমারী।
  • অ্যালোভেরা জেল চুল নরম, মসৃণ এবং ঝলমলে করে তোলে।
  • আপনের চুল পরিষ্কার করতে শ্যামপুর পরিবর্তে ঘৃতকুমারী হেয়ার প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। লেবুর রস নারিকেল তেল এবং দুধের সাথে অ্যালোভেরা মিশিয়ে ব্যবহার করুন এতে আপনার চুল সতেজ থাকবে।

পরিশেষে বলা যায়, ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা ত্বক এবং চুলের জন্য একটি নিরাপদ এবং কার্যকরী উপাদান। এটি ত্বক ও চুলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে থাকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top