মাথা ঘোরার কারণ এবং প্রতিকারের উপায়

মাথা ঘোরার অনুভব করা কোন ভালো অভিজ্ঞতা নয়। যখন কারো মাথা ঘোরায় তখন মনে হয় একপাশে হেলে পড়ছেন। সেই মুহূর্তে ভর দেওয়ার জন্য বা দাঁড়িয়ে থাকার জন্য কোন কিছু আকড়ে ধরে চেষ্টা করতে হয়। যতক্ষণ না মাথা ঘোরা বন্ধ না হয় তো তখন পর্যন্ত অস্বস্তিবোধ লাগে। এই মুহূর্তে মনে হয় সমগ্র অস্তিত্বই যেন নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে। এই মাথা ঘোরানো বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকতে পারে। আপনার শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নির্ভর করে বিভিন্ন ধরনের অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যকলাপের মাধ্যমে। আপনার মস্তিষ্কের বিশেষ কেন্দ্রগুলো সঠিকভাবে সংকেত পাঠানোর কারণে কানের ভেতরের বিভিন্ন অংশে , চোখ , ঘাড়, মধ্যধমনের, এবং পায়ের মাংসপেশির সঠিকভাবে কাজ করে থাকে। যদি কোন কারনে এই সকল অঙ্গ মস্তিষ্কের সংকে ত না পৌঁছাতে পারে ঠিক তখন বা আঘাতপ্রাপ্ত হয় তখন মনে হয় দুনিয়া ঘুরতে থাকে।

বিভিন্ন কারণে মাথা ঘোরার সমস্যা হয়ে থাকে। হার্ট সঠিকভাবে কাজ করতে না পারলে, উচ্চ রক্তচাপ বা রক্তচাপ কমে গেলে, হাইপোগ্লাইসেমিয়া, রক্তস্বল্পতা কারণে, দৃষ্টিশক্তি সমস্যার কারণে, হিটস্ট্রোক, মাইগ্রেন বা দুশ্চিন্তা, মাথায় আঘাত জনিত কারণে মাথা ঘুরতে পারে। এছাড়াও পানি সল্পতা , মানসিক চাপ, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মাথা ঘুরার সমস্যা হয়ে থাকতে পারে।

মাথা ঘোরার কারণ এবং প্রতিকারের উপায়
মাথা ঘোরার কারণ এবং প্রতিকারের উপায়

মাথা ঘোরার কারণ

  • শরীরে হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়ার কারণে মাথা ঘুরতে পারে।
  • অভ্যন্তরীণ কানের সমস্যা: ভেস্টিবুলার সিস্টেম, যা কানের ভেতরে অবস্থিত, ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণের জন্য দায়ী। এই সিস্টেমে সমস্যা হলে মাথা ঘুরতে পারে।
  • উদ্বেগ জনিত সমস্যার কারণেও মাথা ঘুরে থাকে।
  • মস্তিষ্কের রক্ত ​​সরবরাহে বাধা: রক্তনালীতে সমস্যা, যেমন স্ট্রোক, মস্তিষ্কে রক্ত ​​সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং মাথা ঘোরার কারণ হতে পারে।
  • অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা দেখা দিলে মাথা ঘোরাতে পারে।
  • শরীরে রক্তের শর্করার মাত্রা কমে গেলেও মাথা ঘোরা হতে পারে।
  • শরীরে পানিশূন্যতা হলে মাথা ঘুরতে পারে।
  • কিছু কিছু ওষুধ এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মাথা ঘোরার হতে পারে।
  • উদ্বেগ, অ্যালার্জি, ঘুমের অভাব, ক্লান্তি, অতিরিক্ত গরম, এবং রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) মাথা ঘোরার কারণ হতে পারে।
  • মেনিয়ার্স রোগের কারণেও মাথা ঘোরা হয়ে থাকতে পারে।
  • মস্তিষ্কের টিউমার এর কারণেও মাথা ঘোরার হতে পারে।
  • অতিরিক্ত মেদ কমানোর জন্য সারাদিন শারীরিক ব্যায়াম করার ফলেও মাথা ঘুরতে পারে।
  • অঙ্গভঙ্গির জনিত কারণে মাথা ঘোরা হয়ে থাকতে পারে
  • মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস- এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ যা মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডের স্নায়ুকে প্রভাবিত করে। মাথা ঘোরা এর একটি উপসর্গ হতে পারে।
  • ঘাড়ের সমস্যা ঘাড়ের আঘাত এবং স্পন্ডালাইসিস ইত্যাদির কারণেও মাথা ঘোরা হয়ে থাকতে পারে।
  • হৃদরোগের কিছু সমস্যায় মাথা ঘোরার কারণ হয়ে থাকতে পারে।

মাথা ঘুরানোর প্রতিরোধের উপায়

মাথা ঘুরানোর বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকতে পারে, তাই প্রতিরোধের উপায়ও কারণের উপর নির্ভর করবে। তবে কিছু সাধারণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে আপনি মাথা ঘুরানোর ঝুঁকি কমাতে পারেন:

  • প্রতিদিনকার কাজের চাপ কমিয়ে আনতে হবে।
  • আপনাকে বেশি মানসিক চাপ নেওয়া যাবে না।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে। প্রতি রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে। ঘুমের অভাব মাথা ঘুরানোর ঝুঁকি বাড়ায়।
  • নিয়মিত সকালে এবং রাতে হাঁটার অভ্যাস করতে হবে। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি-তীব্রতার ব্যায়াম করতে হবে। ব্যায়াম রক্ত ​​চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং মাথা ঘুরানোর ঝুঁকি কমায়।
  • স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। নিয়মিত ফল, শাকসবজি, এবং গোটা শস্য সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। অস্বাস্থ্যকর খাবার, যেমন প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনিযুক্ত পানীয়, এবং অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
  • ওবেসিটি কমাতে হবে।
  • চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। চাপ মাথা ঘুরানোর ঝুঁকি বাড়ায়। চাপ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ধ্যান, যোগব্যায়াম, বা গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম অনুশীলন করুন।
  • মদ্যপান পরিত্যাগ করতে হবে। অতিরিক্ত মদ্যপান মাথা ঘুরানোর ঝুঁকি বাড়ায়।
  • ধূমপান ত্যাগ ত্যাগ করতে হবে। ধূমপান রক্তনালীতে ক্ষতি করে এবং মাথা ঘুরানোর ঝুঁকি পারিয়ে থাকে।
  • আপনাকে খাদ্যাভ্যাসের থেকে নজর দিতে হবে। অর্থাৎ খাওয়ার সময় আপনাকে অতিরিক্ত লবণ ব্যবহার করা যাবে না।
  • ইমোশনাল ব্রেকডাউন থাকলে মানসিক কাউন্সিল করতে হবে বেশি করে।
  • যদি কখনো হঠাৎ করে মাথা ব্যাথা ঘোরার সমস্যা সৃষ্টি হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আপনি পানি পান করার চেষ্টা করুন। সেই সাথে খাবারের সাথে আপনি আদা ব্যবহার করতে পারেন এতে করে আপনার মাথা ঘোরা প্রবণতা কমতে পারে।
এছাড়াও অন্যান্য প্রতিরোধের উপায়
  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন: উচ্চ রক্তচাপ মাথা ঘুরানোর ঝুঁকি বাড়ায়। আপনার রক্তচাপ নিয়মিত পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজনে ওষুধ খান।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন: ডায়াবেটিস মাথা ঘুরানোর ঝুঁকি বাড়ায়। আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজনে ওষুধ খান।
  • কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন: উচ্চ কোলেস্টেরল মাথা ঘুরানোর ঝুঁকি বাড়ায়। আপনার কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করুন এবং প্রয়োজনে ওষুধ খান।
  • নির্জলীকরণ রোধ করুন: পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। গরমের দিনে বাইরে বের হওয়ার সময় সতর্ক থাকুন।
  • কোন ঔষধ মাথা ঘুরানোর কারণ হতে পারে তা জানুন: আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলুন যে আপনার কোন ঔষধ মাথা ঘুরানোর কারণ হতে পারে।
মাথা ঘোরার সময় এই কাজগুলো করুন
  • মাথা ঘোরানোর সময় সাহসী হওয়ার চেষ্টা করবেন না।
  • দুশ্চিন্তা নিজের মাঝে রাখবেন না।
  • ঘাড় সোজা করে রাখুন।
  • অতিরিক্ত পরিশ্রম করবেন না। বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করুন।
  • নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করুন।
  • মাথা ঘোরার পর অবহেলা করবেন না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top