মানব দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর উপায়

মানব দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী না হলে সামান্য অসুস্থ তাতেও শরীরের খুব সহজে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন রোগীর আক্রমণ শুরু করে দেয়। মানবদেহের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নির্ভর করে ভিটামিন এবং মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট এর উপর। আমাদের চার পাশে প্রাকৃতিকভাবে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের মাধ্যমে আমাদের মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সম্ভব। আর এজন্য মানব দেহের রোগ প্রতিরক্ষমতা বাড়ানোর জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তড়িৎ প্রতিদিন খাদ্য তালিকা পুষ্টিকর খাবার গুলো রাখতে পারেন।

আমাদের মানব দেহের যখন যেকোনো ধরনের রোগ জীবনে কিংবা ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা যখন আক্রান্ত হয় তখন সেগুলোর থেকে শরীরকে রক্ষা করার জন্য আমাদের শরীরের ভেতর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। যার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যতটা ভালো তার রোগ আক্রান্ত হওয়ার যোগ্য কম থাকে। মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কিছু অংশ আমরা জন্মের সময়ে পেয়ে থাকে আর বাকি আমাদের উপর নির্ভর করে থাকে।

মানব দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর উপায়
মানব দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর উপায়

শরীরের রোগ প্রতির ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস নিচে আলোচনা করা হলো

হলুদ: হলুদ আমাদের দেশে প্রায় সব ধরনের রান্নায় ব্যবহারিত একটি উপরিহার্য মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আপনি কি জানেন যে এই হলুদে অসংখ্য স্বাস্থ্য প্রকারিতা রয়েছে? হলুদের উচ্চ ঘনত্ব কার কেউ মিন থাকে যার ফলে হলুদকে হলুদ গেরুয়া রঙ দেয় এবং ব্যায়াম প্ররিচিত পেশি ক্ষতি ও কমিয়ে দেয়।

ঘুরে ঘুম থেকে উঠা:  নিয়মিত ঘুরে ঘুম থেকে ওঠার অনেক উপকারিতা রয়েছে। প্রতিদিন ভরে ঘুম থেকে উঠলে মেডিটেশন বা ব্যায়াম করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়। এবং যে কারো সারাদিন দিনটি সুন্দর এবং সঠিকভাবে কাটাতে সহায়তা করে।

ব্যায়াম: নিয়মিত ব্যায়াম করলে ফিট এবং সুস্থ থাকা যায়। ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে অনেক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া অপসারণের সহায়তা করে এই ব্যায়াম। তাছাড়া ব্যায়ামের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল শরীরে রক্ত সঞ্চালন এর বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও ব্যায়াম আপনার তো এবং চুলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যায়াম
ব্যায়াম

ভিটামিন বি এবং ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খাওয়া: এই জাতীয় ভিটামিন গুলো পানির সাথে মিশে যায় খুব তাড়াতাড়ি। এই জাতীয় ভিটামিন আপনার শরীরে জামা হয় না। আর এজন্য প্রতিদিন কিছু পরিমাণে ভিটামিন সি এবং বি জাতীয় খাবার আপনাকে গ্রহণ করতে হবে। ভিটামিন বি এবং সি জাতীয় খাবার গুলো পানিতে মিশে যাওয়ার কারণে প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে যায়। আপনার শরীরের নার্ভ এর কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এই ভিটামিন গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার শরীরের ভেতরের কারণে যে সকল সেল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বা হয় সেগুলো সাড়িয়ে তুলতে কাজ করে থাকে ভিটামিন সি। কলিজা এবং দুধের মাঝে ভিটামিন বি আছে। এবং টক জাতীয় যেকোনো ধরনের ফল আমলকি লেবু পাতাবি লেবু পেয়ারা এবং কমলাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি উপস্থিত আছে।

সকালের নাস্তা: আমরা অনেকেই ওজন কমানোর জন্য সকালের নাস্তা বাদ দিয়ে থাকি। কিন্তু সকালের নাস্তা বাদ দেওয়া মোটেই ঠিক নয়। যা সকালের নাস্তা না করলে যে কেউ বেশি ক্ষুধার্ত বোধ মনে করতে পারে। এর ফলে পরবর্তীতে তারা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেয়ে ফেলেন। এতে করে উপকারের চেয়ে ক্ষতি হয় বেশি।

ভিটামিন ই জাতীয় খাবার খাওয়া: কাজুবাদাম বাদাম সূর্যমুখের বীজ পালং শাক প্রবৃত্তিতে ভিটামিন ই প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। আর তাই এ ধরনের ভিটামিন নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস করুন।

হাইড্রেট থাকা: আপনার শরীরকে হাইডেড রাখতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। কোষের সঠিক কার্যকারিতাম মানবদেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেওয়া এবং সংক্রমণ প্রতিরোধের হাইড্রেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। আর এজন্যই প্রতিদিন নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেতে হবে।

বাড়িতে খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা: বর্তমানে আমরা সকলেই খুবই ব্যস্ত থাকি। আর তাই আমাদের চেষ্টা করতে হবে সহজ খাবার রান্না করে খেতে। এতে করে সময়ও বাজবে আবার শরীরের জন্য উপকারী হবে। ঘরে রান্না করা স্বাস্থ্যকর খাবারের কোন তুলনাই হয় না। আপনার ঘরের রান্না করা এবং ঘরে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন এতে করে আপনার স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। কারণ আপনার শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যালোরি বা প্রোটিন এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবেন।

তামাক জাতীয় দ্রব্য বা ধূমপান থেকে দূরে থাকুন: দ্রব্য আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতির অন্যতম কারণ। ধূমপান হল ক্যান্সারের অন্যতম কারণ যা চাইলে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। দেশে ক্যান্সারের ৫০% ধূমপানের সাথে সম্পৃক্ত থাকে।

নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা: মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে শারীরিক পরিশ্রমের সম্পর্ক আছে। একজন মানুষ যখন শারীরিক পরিশ্রম করে তখন তার শরীরের প্রতিটি অঙ্গ পতঙ্গ কাজ শুরু করে দেয়। তখন শরীরের মাংসপেশির এবং হৃদযন্ত্র অনেক কার্যকরী হয়। সেই সাথে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে থাকে। আর এর ফলে আপনার শরীরের দূরতম পর্যন্ত অক্সিজেন পৌঁছে দেবে। এর মাধ্যমে আপনার শরীরের কোর্সগুলোতে শক্তি উৎপাদন বৃদ্ধি করবে। আর তাই নিয়মিত প্রতিদিন শারীরিক পরিশ্রমের সাথে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সম্পর্ক আছে। আর এমন পরিশ্রম করতে হবে যাতে শরীর থেকে আপনার ঘাম ঝরে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top