মায়ের বুকের দুধ বাড়ানোর উপায়

নবজাতক শিশুর বিশেষ করে শূন্য থেকে ছয় মাস বয়সী শিশুদের পুষ্টির পূরণের জন্য মায়ের বুকের ভিতর বিকল্প নেই। শিশুর বয়স বাড়ার সাথে সাথে পুষ্টির ঘাটতে পুরোনোর জন্য মায়ের বুকের দুধের প্রয়োজন পড়ে। এ সময় মায়ের বুকের দুধ যদি সঠিকভাবে না আসে তাহলে শিশু অপুষ্টিতে ভুগবে সেই সাথে বিভিন্ন অসুস্থতার কারণে বাচ্চা অপুষ্টিতে থাকবে। অনেক সময় নতুন মায়েরা শিশুর দুধের চাহিদা পূরণের জন্য চিন্তিত থাকে। সেই সাথে মায়ের বুকের দুধের অভাব ও সৃষ্টি হয়ে থাকে। তবে প্রত্যেক মায়েরে বুকের দুধ খাওয়ানোর উচিত নবজাতকের জন্য। অনেক সময় দেখা যায় সঠিকভাবে মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে পারে না বিশেষ করে যারা প্রথম সন্তান জন্মগ্রহণ দিয়ে করে থাকেন।

মায়ের বুকের দুধ বাড়ানোর উপায়
মায়ের বুকের দুধ বাড়ানোর উপায়

যে কারণে মায়ের বুকের দুধ কমে যায়

  • নবজাতক শিশুকে দেরিতে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করলে।
  • নবজাতক শিশুকে বুকের দুধ দেওয়ার আগে অন্য কিছু খাওয়ানো শুরু করলে। এতে করে বাচ্চার খোদা কমে যায় এবং বুকের দুধ খাওয়ার শুরু করতে সমস্যা হতে পারে।
  • নতুন মায়েদের ক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা যায় সে বুকের দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। হলে দুধের উৎপাদন কম হয়ে থাকে।
  • মায়ের মানসিক অস্থিরতা থাকলে অক্সি টোসেন নিঃসরণ কমে যায় এ কারণে বুকের দুধের পরিমাণ কম হয়ে থাকে। এছাড়াও মা যদি ব্যথা নাশক ওষুধ খেয়ে থাকে একে অনেক ক্ষেত্রে এটাও একটি কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বুকের দুধ বাড়ানোর উপায় সমূহ:

নবজাতক নেয়া মায়েরা তাদের বুকের দুধ বৃদ্ধির জন্য শুরু থেকেই ঘরোয়া পদ্ধতিতে অবলম্বন করতে চেষ্টা করে। এক্ষেত্রে বুকের দুধ কমে যাওয়ার কারণটা প্রথমে উদঘাটন করতে পারলে দুধ বাড়ানোর উপায় সহজ হয়ে যায়। এ বিষয়ে নিচে আলোচনা করা হলো:

শিশুকে প্রথম ছয় মাস বুকের দুধ খাওয়াতে হবে

শিশুকে প্রথম ছয় মাস বুড়া দুধ বা গাভীর দুধ খাওয়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। শিশুকে অবশ্যই বুকের দুধ পান করালে বুকের দুধ বৃদ্ধি পাবে। শিশু যখন বুকের দুধ পান করা শুরু করে তখন মায়ের মস্তিষ্কে নার্ভের মাধ্যমে সিগন্যাল চলে যায় এবং হরমোন তোর মাধ্যমে বুকের দুধ তৈরি হয়। এই প্রক্রিয়া আমি প্রথম ছয় মাস পর্যন্ত তৈরি হতে থাকে। যার কারণে শিশু দুধ কমিয়ে  দিলেও বুকের দুধ কমে যায় না।

শিশুকে বারে বারে দুধ খাওয়া

শিশু কে বারেবারে দুধ খাওয়াতে হবে যতক্ষণ এবং যতবার সেসব খেতে চায় ততবার এবং ততক্ষণই খাওয়াবেন। মনে রাখতে হবে শিশু যত বেশি বুকের দুধ খাবে শরীরের দুধ উৎপাদন এবং সঠিক প্রবাহ তত সহজ হয়ে যাবে। এ সময় সেসুর বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ধীরে ধীরে খাওয়াবেন এবং তাড়াহুড়া করবেন না।

শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে খাওয়ানো শুরু করলে উভয় স্তন পান করা

শিশুকে যখন বুকের দুধ খাওয়াবেন তখন উভয় স্তন পান করার অভ্যাস করাবেন। অনেক সময় এক স্তন থেকে বেশি পরিমাণে খাওয়ানোর কারণে অন্য একটি স্তন সমস্যা হতে পারে।

নবজাতক মায়ের পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা

মনে রাখতে হবে বুকের দুধ উৎপাদনের প্রধান শর্ত হলো মাইকে অবশ্যই পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হয়। নবজাতক মাকে শাকসবজি প্রোটিন এবং ফলমূল খাবার খেতে হবে। পাশাপাশি ভিটামিন আইরন এবং অন্যান্য ঘাটতে মেটাতে সেই সকল খাবার খেতে হয়।

মাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা

মাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। পরিমাণ মতো পানি পান করার ফলে দুধ দেহের কারণ ও সঠিক থাকবে এবং বাচ্চাও পানির চাহিদা পূরণ করতে পারবে।

দুশ্চিন্তা মুক্ত থাকা

নবজাতক মাকে অবশ্যই হাসিখুশি থাকার চেষ্টা করতে হবে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম পারতে হবে। শারীরিকভাবে আপনি সুস্থ থাকলে দুধ উৎপাদন প্রক্রিয়া সঠিকভাবে হয়ে থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top