যে সকল খাবার খেলে জ্বরের পর দুর্বলতা কেটে যাবে

আমরা জ্বরে আক্রান্ত হলে জ্বর ভালো হওয়ার পরে শরীর অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে। জ্বর ভালো হতে যেমন সময় লাগে ঠিক তেমনি জ্বর ভালো হওয়ার পর দুর্বলতা কাটাতেও সময় লাগে। জ্বরের পর দুর্বলতা কমানোর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশ্রাম এবং পুষ্টিকর খাবার। অনেকের জ্বর আসার পর খাওয়ার রুচি কমে যায়। এর ফলে শরীরে দুর্বলতা আরো বেশি বেড়ে যায়। এজন্য দুর্বলতা কাটাতে ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া উচিত। ঝরের পর শরীরের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য যেকোনো রকমের খাবার খেলেই হবে না এর জন্য খেতে হবে সঠিক পুষ্টি গুনাগুন সম্পূর্ণ খাবার।

যে সকল খাবার খেলে জ্বরের পর দুর্বলতা কেটে যাবে
যে সকল খাবার খেলে জ্বরের পর দুর্বলতা কেটে যাবে

জ্বরের পরবর্তী সময় দুর্বলতা কাটানোর উপায়

  • জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিদের আয়রন সমৃদ্ধ খাবার এবং পাশাপাশি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিনই এর খাদ্য তালিকায় থাকতে হবে। যেমন বিভিন্ন রকমের ডাল, মাশরুম, তিসি, ছোলা বাদাম, বাদাম এ সকল খাবারের রয়েছে পুষ্টিগুণাগুণ। সেই সাথে আপনি মাংস খেতে পারেন এতে করে শরীরের দুর্বলতা কেটে যাবে।
  • কাঁচামরিচ, ডঙ্কি দই, কাঁচা লবন, খেজুর ইত্যাদি প্রো-বায়টিক্স এবং প্রি-বায়টিক্স হিসেবে খাওয়া উচিত। এগুলি পেটের স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।
  • খিচুড়ি, নারকেলের দুধ এবং মধু জ্বরোত্তর দুর্বলতা দূর করতে সহায়ক।
  • মৌসুমী ফলের মাঝে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পোষ্টি গুনাগুন। ুন যেমন কমলা, আপেল, পাকা পেঁপে, আনারস, ডালিম, পেয়ারা, বড়ই, লেবু, ইত্যাদি খেতে পারেন
  • শাক সবজির মাঝে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন যেমন পালং শাক, কচু শাক, আলু, টমেটো, গাজর, শিম ইত্যাদিতে রয়েছে শারীরিক দুর্বলতা কাটানোর জন্য প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন।
  • জ্বরের পরবর্তী দুর্বলতা কাটানোর জন্য সঠিক পরিমাণে পানি পান করতে হবে। সেই সাথে আপনি বিভিন্ন ধরনের ফলের জুস খেতে পারেন।
  • জ্বরের পরবর্তী সময়ও আপনি আদা চা খেতে পারেন। এতে করে আপনার শরীরের দুর্বলতা কাটার পাশাপাশি মুখের রুচি ফিরে আসবে। এবং আদা চাষ শরীরকে জীবাণুমুক্ত রাখতে সাহায্য করবে।
  • চাল, দানা, শস্য, ওটস, রেজিন, ইত্যাদি গাঢ় গুড়া খাবার খাওয়া উচিত। এগুলি পুষ্টিকর এবং শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করতে পারে।
  • বাসি ও ঝালযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
  • জ্বরের পরবর্তীতে আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম নিতে হবে এতে করে আপনি দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবেন।
  • আপনার অল্প অল্প করে বারবার খাবার খাওয়া উচিত।
  • চিকিৎসক আপনার শারীরিক অবস্থা ও পুষ্টির চাহিদা অনুযায়ী একটি উপযুক্ত খাদ্য তালিকা তৈরি করতে সাহায্য করতে পারেন।
এছাড়াও অন্যান্য উপায় রয়েছে
প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার:
  • শরীরের কোষ ও টিস্যু মেরামতের জন্য প্রোটিন অপরিহার্য।
  • প্রতিদিন 1.2-1.5 গ্রাম/কেজি শারীরিক ওজন অনুযায়ী প্রোটিন গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
  • মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, বাদাম এবং দুগ্ধজাত খাবার প্রোটিনের ভালো উৎস।

আঁশ সমৃদ্ধ খাবার:

  • ওটমিল, ব্রাউন রাইস, খেজুর এবং শাকসবজিতে আঁশ থাকে।
  • আঁশ হজমশক্তি উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
  • প্রতিদিন 25-30 গ্রাম আঁশ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ খাবার:
  • ভিটামিন এ, সি, ই এবং জিঙ্ক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং দ্রুত সুস্থতা লাভে সাহায্য করে।
  • প্রতিদিন বিভিন্ন রঙের ফল ও শাকসবজি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
  • ফল, শাকসবজি, বাদাম এবং বীজ ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ খাবার।

আপনার যদি দীর্ঘদিন দুর্বলতা থাকে, তাহলে একজন চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top