শিশুর দুধ দাঁতের যত্ন যেভাবে নেবেন

আমাদের শরীরে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো দাঁত। এই দাঁত শিশুর সুস্থভাবে বাঁচার জন্য প্রয়োজন হয় এই বিশেষ অঙ্গের উপযুক্ত পরিচর্যা এবং রক্ষণাবেক্ষণ এর। এজন্য দাঁত ওঠার সময় থেকেই শিশুদের দাঁতের যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি। না হলে দাঁতের নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে আপনার শিশুর। প্রাপ্তবয়স্কদের যেমন নিয়মিত দাঁতের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন ঠিক তেমনি শিশুদেরও দাঁত মাজে সুস্থ এবং দাঁত ক্ষয় মুক্ত রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত দাঁতের যত্ন। তবে শিশুদের এই দাঁতের যত্নে বড়দের তুলনায় পার্থক্য রয়েছে।

সচেতনতার অভাবে আমাদের প্রাথমিক দাঁত বা শিশুর দাঁত অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। দুধ দাঁতের স্থায়িত্বকাল অল্প হলেও এগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। এই দাঁতের শিকড়ের নিচে রয়েছে স্থায়ী দাঁতের গঠন শুরু হয়ে থাকে। আর তাই সংক্রমনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। দাঁত সুন্দর হলে স্পষ্ট উচ্চারণ চোয়ালের গঠন এবং মুখের আকৃতি ঠিক রাখা ও স্থায়ী দাঁত সঠিক জায়গায় গজানোর বিষয়টিও দুধ দাতের উপর ভীষণভাবে নির্ভরশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ। সেইসাথে সে সুর স্মৃতিশক্তি লতাম লেখাপড়ায় মনোনিবেশ সহ আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক বিকাশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর এজন্যই আপনার শিশুর দৌড় দাঁতের যত্ন নেওয়ার জন্য খুবই সচেতন হতে হবে।

বয়সের ভিন্নতায় দাঁতের সাধারণ রোগের উপর স্বর্গ এবং কারণ শিশুর জন্মের ছয় মাস পর থেকে দুধ ওঠা শুরু হয় এবং প্রায় তিন বছর বয়স পর্যন্ত দুধদাত উঠতে থাকে। আর তাই ৬ মাস বয়স থেকেই দাঁতের যত্ন নেয়া শুরু করতে হবে। এ সময় শিশুকে বুকের দুধের পাশাপাশি অন্যান্য নরম পারিবারিক খাবার দেওয়া হয়। খাবার শিশুর শরীরের স্বাভাবিক গঠন এবং পুষ্টির জন্য সব ধরনের খাবার প্রয়োজন বটে তবে আপনি ক্যান্ডি মিষ্টি জাতীয় খাবার জুস ইত্যাদি খাওয়ানো থেকে বিরত থাকবেন। সাধারণত এসিটিক খাদ্য অর্থাৎ খাবার যেমন ইলেকট্রিক এসিডযুক্ত খাবার প্রধান কারণ। অতিরিক্ত আইসক্রিম খাওয়ানো চকলেট খাওয়ানো এবং এ জাতীয় খাবার খাওয়ার থেকে বিরত থাকতে হবে এবং পাশাপাশি দাঁত পরিষ্কার রাখতে হবে। খাবার লেগে থাকলে দাঁতের ক্ষতি হয়ে থাকে সেজন্য দাঁত ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

শিশুর দুধ দাঁতের যত্ন যেভাবে নেবেন
শিশুর দুধ দাঁতের যত্ন যেভাবে নেবেন

শিশুদের দুধদাত ওঠা সময় এবং পড়ার সময়

সকল শিশুর একসময়ে দাঁত উঠে না। ছয় মাস বয়সে বেশিরভাগ শিশুর দ্বারা প্রথম দাঁত ওঠা শুরু হয়। যদি এর লক্ষণগুলো আরো অনেক আগে থেকেই দেখা দেয়। আমাদের মাঝে এসব লক্ষণ নিয়েও বেশ ভুল ধারণা রয়েছে।

সাধারণত নিচের মাড়ির সামনের দিকে ৬ থেকে ৯ মাস বছর বয়সে চারটি দাঁত ওঠে। আর উপরের মাড়ির সামনের দিকে চারটে দাঁত ওঠেন ৭ থেকে ১০ মাস বয়সে। এই দুধ দাতগুলো সাধারণত ৬ বছর থেকে ৯ বছরের বয়সের মাঝে পড়ে স্থায়ী দাঁত গজায়। উপরে এবং নিচে মারের সামনের চারটি দাঁতের দুই পাশে একটি করে চারটি দাঁত ওঠে ১৬ মাস থেকে ২০ মাস বয়সে আর এই দাঁতগুলো ৯ থেকে ১২ বছর বয়সে পড়ে যায়। উপরে এবং নিচের মারের দুই পাশের আটটি দাঁতের মধ্যে প্রথমটি ওঠে ১২ থেকে ১৬ মাস বয়সে এবং এই দাত গুলি ৯ থেকে ১০ বছর বয়সে পড়ে যায়। দ্বিতীয় দাঁত ওঠে ২০ থেকে ২৪ মাস বয়সে আর পড়ে যায় ১১ থেকে ১২ বছর বয়সে মধ্যে। আর এইভাবে ২০টি দুধ দাগ পরে ৩২ টি স্থায়ী ওঠে। এই সময় সঠিক সময়ে ওঠার জন্য আপনার শিশুকে বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়ার অভ্যাস করে তুলবেন।

শিশুদের দাঁত ওঠার সময় থেকেই সচেতন থাকতে হবে

সাধারণত গর্ভধারণের 6 সপ্তাহ থেকে গর্ভস্থ শিশুর দাঁতের গঠন প্রক্রিয়ার শুরু হয়ে যায়। এ গর্ব অবস্থায় খাবারের পর্যাপ্ত পুষ্টি এবং ক্যালসিয়াম নিশ্চিত করতে হবে গর্ভবতী মাকে। শিশুর দাঁত ওঠার আগে পরিষ্কার সত্যি কাপড় পানিতে ভিজিয়ে পরিষ্কার করে দিতে হবে।

আপনার শিশুর মুখে দুধ দাঁত ওঠার আগে থেকেই যত্ন নেওয়া উচিত। প্রতিবার বুকের দুধ খাওয়ার পর জিব্বা এবং মাড়ি নরম সুতি কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করে দিতে পারেন।

শিশুদের দাঁত ওঠার সময়
শিশুদের দাঁত ওঠার সময়

আপনার শিশুর যখন ছয় মাস বয়স হবে তখন থেকে ফিঙ্গার টুথব্রাশ দিয়ে দাঁত মাড়ি এবং জিব্বা পরিষ্কার করে দিতে হবে। বর্তমানে ফিঙ্গার টুথব্রাশ সিলিকনের তরে বাজারে পাওয়া যায়। এই ব্রাশগুলি শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়ে থাকে। যখন নিজে থেকেই গড়গড়াগুলি করতে পারবে তখন থেকে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস করাতে হবে।

শিশুর খাদ্যা অভ্যাস নিশ্চিত করুন

দুধ দাঁতের যত্নে শিশু খাদ্য অভ্যাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। চিনি মিষ্টি কোমল পানীয় চকলেট চিপস আইসক্রিম দাঁত ক্ষয় করে থাকে আর এগুলোর পরিবর্তে ফরমালিনযুক্ত তাজা মৌসুমী ফল ফলের জুস মাছ মাংস খাওয়ানোর অভ্যাস করতে হবে। যদি আপনার শিশুর দাঁতে গর্তসহ জিহ্বার উপর সাদা প্ৰলেপ বা কোন ক্ষত দেখলে দ্রুত দাঁতের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাবেন।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top