শিশু খেতে না চাইলে করণীয়

বেশিরভাগ মায়েরই একটি অভিযোগ শিশু খেতে চায় না। কোন কোন অসুস্থতার কারণে শিশুদের রুচি কমে যেতে পারে কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিষয়টি এত জটিল নয়। অনেক ক্ষেত্রেই এ বিষয়ে দুশ্চিন্তা করে থাকেন।

শিশুর এই বিষয়ে কোন অসুস্থতা নেই শিশুর সমস্যাটা হচ্ছে তার মনের ভেতরে। বয়স অনুযায়ী শারীরিক মানসিক বিকাশে অন্য বাচ্চাদের মতো হলে শিশুরা খাওয়া নিয়ে বাবা মার দোষ চিন্তা করার কিছু নেই।

শিশুরা ১ থেকে ২ বছরের সাধারণত দুরন্ত প্রকৃতির হয়ে থাকে। এ সময় খাবারের চেয়ে চঞ্চলতা এবং খেলাধুলা বেশি পছন্দ করে থাকে। আর তাই শিশুকে বসিয়ে খাবার খাওয়ানো অনেকটাই দূরহ হওয়া ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়াও শিশুরা যদি চিপস চকলেট জুস এই ধরনের বাইরের খাবার খেয়ে অবস্থা থাকে তাহলে ঘরের তৈরি খাবার খেতে চায় না। অনেক মায়েরাই অভিযোগ করে থাকেন খাবার না দিলে সারাদিন না খেয়েই থাকে বাচ্চারা। আবার জোর করে কিছু খাওয়াতে গেলে বমি করে দেয়।

শিশু জন্মের পর থেকে শুরু করে প্রথম ৬ মাস বুকের দুধ খাওয়ানো হয়। এরপর ছয় মাসের পর থেকে ধীরে ধীরে বাড়তি খাবার খাওয়ানো শুরু করা হয়। ঠিক এই সময় সঠিক নিয়মে খাবার না খাওয়ালে শিশুরা খাবারের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে এর ফলে শিশুরাম খেতে চায় না। আবার অনেক সময় আমরা একই খাবার প্রতিদিন দিয়ে থাকি। এতে শিশুরা একঘেয়েমিতে ম খাবার খেতে পছন্দ করে না। সেই সাথে খাবারের ঘনত্ব সঠিকভাবে না হওয়া অথবা খুব বেশি তরল অথবা একদম ব্লেন্ড করা খাবার দিলে স্বাদ পায় না। আবার অনেক সময় খাবার বেশি শক্ত হলে গিলতে পারে না। বাচ্চাদের পাকস্থলী আকারে ছোট হয়ে থাকে যে কারণে বুকের দুধের পাশাপাশি খাবারের আগ্রহটাও খুব একটা থাকে না।

শিশুরা খেতে চায় না কেন

আসলে খাওয়ার ব্যাপারে যত অনিয়ম শিশুর না খেতে চাওয়ার অন্যতম কারণ। অধিকাংশ সময় এ ধরনের অভিযোগ অভিভাবকরা করেন না জেনে। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিশুদের আবদার মেটাতে গিয়ে অভিভাবকদেরও ঘটে-বিপত্তি। বাহিরের লোভনীয় খাবারের বাচ্চাকে অসুস্থ করে তুললেও কোন কোন শিশুর স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস নষ্ট করে দেয়। আবার অনেক মা-বাবা আছেন খাওয়ার সময় বাচ্চাকে ফল লজেন্স বিস্কুট আইসক্রিম ইত্যাদি খেতে দিয়ে থাকেন। আবার অনেকে অনেক সময় নিয়ে খাওয়ান লক্ষ্য করেন না যে শিশুর পেটে ক্ষুধা আছে কিনা নাই। অনেক মা বাবা আবার মনে করেন শিশুর কান্নাকাটি করছে ক্ষুধা লেগেছে এর জন্য কান্নাকাটি করছে এটা মনে করে থাকেন। অথচ ওই বাচ্চা অন্য কোন কারণেও কান্নাকাটি করতে পারে। মা বাবা আছেন আবার যারা শিশু একবেলা না খেলেই অস্থির হয়ে যান অভিভাবকরা। এ সকল অভ্যাসে শিশুর জন্য ক্ষতির কারন হয়।

শিশু খেতে না চাইলে করণীয়
শিশু খেতে না চাইলে করণীয়
এছাড়াও কিছু কারণ রয়েছে

অসুস্থতার কারণে:

  • ঠান্ডা লাগা, জ্বর, পেট ব্যথা, দাঁত উঠা ইত্যাদি অসুস্থতার কারণে শিশু খেতে না চাইতে পারে।
  • শিশু যদি অসুস্থ থাকে তবে তার খাওয়ার রুচি কমে যেতে পারে।

খাবারের প্রতি অনীহা থাকার কারণে:

  • শিশু যদি নতুন কোন খাবার খেতে না চায় তবে তাকে বারবার চেষ্টা করে খাওয়াতে হবে।
  • শিশু যদি কোন নির্দিষ্ট খাবার পছন্দ না করে তবে সে সেটি খেতে না চাইতে পারে।

ক্ষুধা না লাগার কারণে:

  • অনেক শিশু দিনে তিন বেলার চেয়ে অল্প অল্প করে বারেবারে খেতে পছন্দ করে।
  • শিশুরা যদি সম্প্রতি খাওয়া থাকে তবে তার ক্ষুধা নাও লাগতে পারে।

খাওয়ার পরিবেশ না থাকার কারনে:

  • খাওয়ার সময় পরিবারের সাথে বসে খেলে শিশু বেশি খেতে পারে।
  • শিশু যদি খাওয়ার সময় টিভি দেখে বা মোবাইলে খেলে তবে সে খাবারের দিকে মনোযোগ দেবে না।

মানসিক চাপ থাকলে:

  • পারিবারিক অশান্তি, স্কুলে সমস্যা, বন্ধুদের সাথে ঝগড়া ইত্যাদি কারণে শিশু মানসিক চাপে থাকতে পারে।
  • শিশু যদি মানসিক চাপে থাকে তবে তার খাওয়ার রুচি কমে যেতে পারে।

শিশু খেতে না চাইলে করণীয়

  • শিশুর মাঝে বিভিন্ন ধরনের খাবার পরিবেশন করুন।
  • আপনার সাথে শিশুকে খাবার তৈরিতে অংশ গ্রহণ করতে দিন।
  • শিশুর খাবার আকর্ষণীয় করে সাজান।
  • শিশুকে খাওয়ার সময় পরিবারের সাথে বসে খাওয়া।
  • শিশুকে খাওয়ানোর সময় ধৈর্য ধরুন এবং শিশুকে চাপ দেবেন না।
  • শিশুকে খাওয়ার জন্য পুরস্কৃত করবেন না।

মনে রাখতে হবে প্রতিটি শিশু অনন্য। আপনার শিশুর জন্য কোন পদ্ধতি টি সবচেয়ে ভালো হবে তা খুঁজে বের করার জন্য আপনাকে বিভিন্ন পদ্ধতি চেষ্টা করে বের করতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top