সকল উপায়ে মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি পাবেন

মানসিক দুশ্চিন্তা আসবেই এটা স্বাভাবিক। কোন কিছুতেই ভালো লাগছে না কোন কিছুতেই শান্তি পাওয়া যাচ্ছে না। কোন কাজে মন বসাতে পারছেন না। আশপাশের কাউকে সহ্য করা যাচ্ছে না। বিরক্ত বোধ লাগছে অসহ্য লাগছে সবকিছু। এ অবস্থা থেকে বের হতে অনেক চেষ্টা করা যাচ্ছে কিন্তু কোনোভাবেই নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছেন না। অনেক ভেবেচিন্তেও বের করতে পারছেন না কেন এমন লাগতেছে? তোর দায়িত্ব নেওয়ার বয়স হয়ে গেছে এবং যে দায়িত্ববান তার দুশ্চিন্তা থাকাটাই স্বাভাবিক। বর্তমান এই সময়ে। আর এই দুশ্চিন্তা থেকেই আসবে মানসিক অস্বস্তি বা অস্থিরতা। তবে এটি আমাদের জীবনের একটি অভিচ্ছেদ্য অংশ। আর তাই নিজেকে ভালো রাখতে এবং জীবন সংগ্রামে চালিয়ে যেতে হলে সাময়িক সময়ের জন্য হলেও এই দুশ্চিন্তাগুলো ভুলে থাকা আমাদের মানিয়ে নিতে হবে।

কথায় বলে চিন্তা বিহীন কাজ নাকি ডেকে আনে বিপদ। আর তাই সূক্ষ্ণভাবনাচিন্তার গুরুত্ব আমরা সকলেই বুঝে থাকি। কিন্তু এই চিন্তা যদি হয়ে থাকেন অপ্রয়োজনীয়। তাহলে আমাদের জীবনে বয়ে আনতে পারে নানাবিদের সমস্যা বিশেষ করে মানসিক সমস্যা। অতিরিক্ত চিন্তাভাবনা মানুষের শরীরের মধ্যে অন্যান্য রোগের সৃষ্টি করে থাকে। কোথায় আছে অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা- অর্থাৎ মস্তিষ্ক যদি অলস বসে থাকে তাহলে অহেতুক চিন্তা ভাবনা চলে আসে। আর এই সময় মাথায় জমতে থাকে হাজারো দুশ্চিন্তা।

সকল উপায়ে মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি পাবেন
সকল উপায়ে মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি পাবেন

মানসিক অস্থিরতা থাকতে মুক্তির উপায়

নিজের জন্য সময়

আমাদের মানসিক অসস্তি থেকে সাময়িক মুক্তি পাওয়ার অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপায় হল নিজেকে এমন কিছুতে ব্যস্ত রাখা যাতে আপনি সেটি পছন্দ করে থাকেন। আপনি কিভাবে সময় কাটাতে পছন্দ করেন সেটার উপরে নির্ভর করবে আপনার কাজটি। যেমন বই পড়া সিনেমা দেখা, খেলাধুলা করা, ভ্রমনে বের হওয়া, অথবা আড্ডা দেওয়া এই সকল কাজ আপনার যেভাবে সময় কাটাতে পছন্দ হয়ে থাকে।

আলোচনা বা আড্ডা

আপনার নিজের মাঝে চেপে থাকার সমস্যাগুলি নিয়ে কারো সঙ্গে আলোচনার সুযোগ পেলে সেগুলি আলোচনা করতে পারেন। এতে মানসিকভাবে আপনি যেমন স্বস্তিবোধ করবেন ঠিক তেমনি সেই সকল সমস্যার সমাধানও হয়ে যাবে। তবে এ বিষয়ে আপনাকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে আলোচনার সঙ্গী যেন অবশ্যই বিশ্বস্ত হয়ে থাকে। সেজন্য আপনি আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের বা স্ত্রীর সাথে বিষয়গুলি শেয়ার করতে পারেন। এভাবে আড্ডার মাঝেই সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে।

না বলতে শেখা

আমাদের জীবনে যে সকল ঝুর-ঝামেলা আছে তাতে যখন আপনি হিমশিম খাচ্ছেন তখন সেই মুহূর্তে নতুন আরেকটি কাজে বা কথা না দেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আপনার হাতে যেহেতু কাজ আছে সেটির শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোন কাজে হাত না দেওয়াটাই ভালো। আপনি যদি বাহিরে ভ্রমণ করার সময় বের করতে না পারেন তবে কারো সাথে ভ্রমণে যাওয়ার কথা দেওয়ার মাধ্যমে নিজেকে দ্বিধাগ্রস্থ আমাদের না ফেলাই ভালো। এতে করে আপনার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মানসিক চাপ তারা সম্ভাবনা থাকবে।

নীতিবাচক মানুষ থেকে দূরে থাকা

আপনি যে সকল মানুষের সাথে কথা বলে শান্তি পান না তাদের কাছ থেকে দূরে থাকতে পারেন। নম্রভাবে তাদের সঙ্গে দূরত্ব তোর চেষ্টা করতে পারেন। সেই মানুষগুলোর সাথে আড্ডা থেকে দূরে থাকতে পারেন।

আপনার মনকে বিশ্রাম দেওয়া

আপনার মানসিক চাপ যদি নাগালের বাহিরে থাকে তাহলে এখনই সময় একটু নিজেকে বিশ্রাম নেওয়ার। সেজন্য কয়েকটি দিনের জন্য নিজেকে ছুটি নিন। সেজন্য সকল কিছুর দায় দায়িত্ব থেকে নিজেকে নিজের মতো সময় নেওয়ার চেষ্টা করুন। আর এই সময় আপনি নিজের কাজগুলোর পাশাপাশি মানসিক অস্বস্তি থেকে বাঁচার জন্য অনুশীলন করতে পারেন।

আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখুন

অন্য সময় অহেতুক দুশ্চিন্তা মানসিক সাবের সৃষ্টি করে থাকে যা থেকে খিটখিটে মেজাজ অথবা রেগে যাওয়ার মত ঘটনাও ঘটে থেকে থাকে। এই সময় নিজের রাগ অন্যের উপর গিয়ে পড়ে। সেজন্য এই সময় আবেগ নিয়ন্ত্রণ রাখার চেষ্টা করুন। আবেগ নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারলে মানসিক অসুস্থতা থেকে মুক্তি পাবেন।

হেসে উড়িয়ে দেওয়া

কথায় আছে হাসি নাকি পৃথিবীর সবচাইতে মূল্যবান ওষুধ। আপনি যখন মানসিক অসস্তিতে ভুগবেন তখন সেগুলি উড়িয়ে দিতে পারেন। এখন কিভাবে করবেন সেটি আপনি ঠিক করবেন। ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সাথে আড্ডায় বসে সাময়িকভাবে হাসাহাসির মাধ্যমে অস্বস্তি দূর করে নিতে পারেন।

এছাড়া অন্যান্য উপায় রয়েছেন

 

  • প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করা।
  • সুশৃংখলভাবে জীবন যাপনের অভ্যাস করুন এবং তামাক জাতীয় দ্রব্য থেকে এড়িয়ে বাঁচুন।
  • ভবিষ্যতে কি হবে তা নিয়ে ভেবেও অনেক সময় আমাদের মানসিক অস্থিরতা বেড়ে যায়। এই ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করুন এবং সে অনুযায়ী কাজ করে যান।
  • উল্টো দিক থেকে গণনা শুরু করুন।
  • আপনার অস্থিরতার বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেওয়ার চেষ্টা করুন।
  • নিয়মিত রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
  • মানসিক অস্থিরতা মুক্ত করতে ফেলে আসা জীবনের কিছু ভালো স্মৃতি মনে করার চেষ্টা করুন।
  • পুষ্টিকর খাবার খান এবং প্রচুর পানি পান করুন।
  • মদ্যপান ও ধূমপান মানসিক অস্থিরতা বৃদ্ধি করে। সেজন্য এগুলো থেকে বিরত থাকুন।
  • ধর্মীয় অনুশীলন অনেকের জন্য মানসিক শান্তি দান করে। সেজন্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজেকে স্বস্তি আনতে পারেন।

আপনার যদি মনে হয় যে আপনার মানসিক অস্থিরতা গুরুতর, তাহলে দ্রুত একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top