সহজ উপায়ে গুড় সংরক্ষণের উপায়

শীত আসলে বাঙ্গালীদের উৎসব মুখর একটি আনন্দময় মৌসুম। আমাদের দেশে প্রাচীন বাংলার নবান্ন উৎসব থেকে শুরু করে পৌষ পার্বণ এবং বিভিন্ন সময়ের পিঠা উৎসব এবং বিয়ের অনুষ্ঠানেও বাঙালিদের পিঠারে উৎসব হয়ে থাকে। বিয়ের পর মেয়ে বিদায়ের অনুষ্ঠানে ও পিঠা তৈরীর উৎসব হয়ে থাকে। এই পিঠা চোরের অন্যতম উপকরণ হলো খেজুরের গুড়। এই গৌর বছরের খুব অল্প সময়ের জন্য পাওয়া যায় অর্থাৎ এ খেজুরের রস যত সময় পাওয়া যায় ততক্ষণে খেজুরের খোর পাওয়া যায়। আর তাই দীর্ঘদিন খেজুরের গুড় সংরক্ষণ করতে বিভিন্ন রাসায়নিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কিন্তু আপনি একটু পরিশ্রম করলেই খুব সহজেই রাসায়নিক পদ্ধতি ব্যবহার না করেই ঘরোয়া পদ্ধতিতে এই খেজুরের গুড় সংগ্রহ করতে পারেন দীর্ঘ সময় ধরে। এই খেজুরের গুড় সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে না পারলে এ গুড়ের মাঝে ফাঙ্গাস জন্ম নেয়। যদিও এই খেজুরের গুড় ব্যবহার করার পূর্বে ফাঙ্গাস জোর করে ব্যবহার করা যায়।

সহজ উপায়ে গুড় সংরক্ষণের উপায়
সহজ উপায়ে গুড় সংরক্ষণের উপায়

গুড়কে ফাঙ্গাস মুক্ত রেখে যেভাবে সংরক্ষণ করতে পারবেন

  • প্লাস্টিকের পাত্রে যদি সংরক্ষণ করতে চান তাহলে কিছুদিন পর পর এই খেজুরের গুড় রোদে দিয়ে শুকিয়ে নিতে হবে তাহলে ফাঙ্গাসমুক্ত থাকবে।
  • ফোনে যদি এই খেজুরের উপর রোদে দিতে না পারেন তাহলে কিছুদিন পর পর খেজুরের গুড় জাল দিয়ে সংরক্ষণ করতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে গুড় যেন গরম হওয়ার পর বুদবুদ হওয়া পর্যন্ত আপনাকে জাল দিতে হবে। এরপর নামিয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় এলে পুনরায় প্লাস্টিক বক্সে রেখে ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে পারেন।
  • আপনি খেজুরের গুড় পরিষ্কার একটি কাঁচের পাত্রে সিরামিক পাত্রের সংরক্ষণ করে দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে পারেন।
  • খেজুরের গুড় যে পাত্রে রাখুন না কেন সেই পাত্রে যেন বাতাস কোনভাবে প্রবেশ না করে। ব্যবহার করার সময় যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু গুণ বের করে বাকি অংশ পাত্রের মাঝে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন। সম্ভব হলে জিপলক ব্যাগে রেখে দিতে পারেন এতে গুড় দীর্ঘদিন ভালো থাকবে। গুড় ব্যবহার করার সময় কোনক্রমেই ভিজা হাত বা চামচ ব্যবহার করা যাবে না। প্রয়োজনে যে চামচটি গুড় বের করার জন্য ব্যবহার করবেন সেটির পাত্রের ভিতরে রেখে দিতে পারেন।
  • সিল করা যায় এমন প্লাস্টিকের সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
  • যদি খুব পাতলা হয়ে থাকে তাহলে সেটি খুব দ্রুত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর তাই আপনি যদি সেটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে চান তাহলে আপনাকে সেই খেজুরের গুড় অবশ্যই জাল দিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে। এতে করে দীর্ঘদিন গুড় সংরক্ষণ করা যাবে।
  • খেজুরগর অবশ্যই আপনাকে আসল গুড় কিনতে হবে নকল গুড় কিনলে আপনি সেটা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে পারবেন না। এতে করে আপনি যেমন ঠকবেন ঠিক তেমনি গুড় বেশি দিন ঘরের সংরক্ষণ করতে পারবেন না। অনেক সময় গুড়ের স্বাদ আনার জন্য রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় এ রাসায়নিক গুড় দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায় না।
এছাড়াও অন্যান্য পদ্ধতিতে খেজুরের গুড় সংরক্ষণ করতে পারেন

নিয়মিত পর্যবেক্ষণ:

  • খেজুরের গুড় ফাঙ্গাস আক্রান্ত অংশটি সরিয়ে ফেলুন এবং বাকি অংশটুকু আরেকটি নতুন ও পরিষ্কার পাত্রে সংরক্ষণ করুন।
  • গুড় নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন এবং কোনো ছত্রাক বা পোকা-মাকড়ের আক্রমণ দেখা গেলে দ্রুত ব্যবস্থা ব্যবস্থা নিবেন।

শুষ্ক ও ঠান্ডা স্থানে সংরক্ষণ করুন:

  • আপনার রান্নাঘরের তাক বা আলমারি গুড় সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত স্থান হতে পারে।
  • গুড় সরাসরি রোদের আলো, আর্দ্রতা, এবং গরম থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন।
  • ফ্রিজে সংরক্ষণ করলে গুড় আরও বেশিদিন ভালো থাকবে। তবে গুড় মাঝে মাঝে বের করে রোদ্রে শুকাতে দিতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top